বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) গতকাল অনুষ্ঠিত পরিচালনা পরিষদের বৈঠকে পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে আর্থিক কমিটি চেয়ারম্যানের পদে পুনরায় নিযুক্ত করেছে। নাজমুলের পুনঃনিয়োগের আগে খেলোয়াড়দের প্রতিবাদে তিনি একই পদ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
নাজমুলকে প্রথমে আর্থিক কমিটি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল, যখন ক্রিকেটাররা তার কিছু মন্তব্যের পর কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায়। সেই মন্তব্যগুলো খেলোয়াড়দের ক্ষতিপূরণ ও আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ নিয়ে ছিল।
বৈঠকে নাজমুল বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং অন্যান্য পরিচালকদের সমর্থন পেয়ে পুনঃনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকের পরে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পরিচালনা পরিষদ নাজমুলের পূর্ববর্তী কাজের মূল্যায়ন করে পদ পুনর্বহাল করেছে।
শাসন কমিটির চেয়ারম্যান ফয়াজুর রহমান জানিয়েছেন, শাসন কমিটি তাদের পর্যবেক্ষণ পরিচালনা পরিষদে উপস্থাপন করেছে এবং পরিষদ সেই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শাসন কমিটি তাদের সুপারিশকে সভাপতি নির্দেশনা অনুযায়ী পুনঃনিয়োগের প্রস্তাব হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
নাজমুল ১৮ জানুয়ারি পরিচালনা পরিষদের শো-কার্স নোটিশের উত্তর দিয়েছিলেন, যদিও তা নির্ধারিত সময়সীমার পরের দিন ছিল। শাসন কমিটি তার উত্তরকে ইতিবাচক ও সন্তোষজনক বলে মূল্যায়ন করেছে, তবে উত্তরটির বিশদ বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি।
বিতর্কের মূল কারণ ছিল ১৪ জানুয়ারি নাজমুলের মিডিয়ায় প্রকাশিত মন্তব্য। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ যদি আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারে, তবে বোর্ডের খেলোয়াড়দের কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দায়িত্ব নেই, কারণ বিশ্ব ইভেন্টে খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য বোর্ড কখনোই খেলোয়াড়দের থেকে রিফান্ড চায় না।
এই মন্তব্যের পর খেলোয়াড়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বাংলাদেশের ক্রিকেটার কল্যাণ সংস্থা (CWAB) নাজমুলের পদত্যাগের দাবি জানায় এবং তিনি না ছাড়লে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (BPL) ও অন্যান্য সব ধরনের ক্রিকেটে অংশগ্রহণ বন্ধ করার হুমকি দেয়।
খেলোয়াড়দের এই অবস্থান BPL-এর সূচিতে প্রভাব ফেলে; একদিনের জন্য টুর্নামেন্ট স্থগিত করা হয়। যদিও বোর্ড নাজমুলকে আর্থিক কমিটি থেকে সরিয়ে দেয়, তবু খেলোয়াড়দের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকে।
পরবর্তীতে বোর্ড শাসন প্রক্রিয়া চালিয়ে নাজমুলকে পরিচালনা পরিষদের সদস্যপদ থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। এই পদক্ষেপের পর খেলোয়াড়রা শর্ত পূরণে সম্মত হয় এবং BPL পুনরায় শুরু হয়।
বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষের দাবী ও প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পরিচালনা পরিষদ ও খেলোয়াড়রা উভয়ই নিজেদের প্রতিশ্রুতি পালন না করা পক্ষকে দায়ী করে উল্লেখ করেছে। নাজমুলের পুনঃনিয়োগের মাধ্যমে বোর্ডের শাসন কাঠামো পুনরুদ্ধার হয়েছে এবং ক্রিকেটের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।



