ঢাকা পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে রবিবার অনুষ্ঠিত সভার শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের তহবিল কেটে দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তটি দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন গতি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
সেই সভায় মোট ২৫টি নতুন অবকাঠামো প্রকল্প অনুমোদন করা হয়, যার মোট ব্যয় ৪৫,১৯১ কোটি টাকা নির্ধারিত হয়েছে। মূল পরিকল্পনায় দুটি প্রকল্পকে একত্রে চালু করার কথা ছিল, তবে বাস্তবায়নের সময় একটিকে আলাদা করে অতিরিক্ত একটি প্রকল্প হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে, ফলে অনুমোদিত প্রকল্পের সংখ্যা একটিতে বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার এই সময়ে নতুন প্রকল্পের সংখ্যা সীমিত রাখার কথা উল্লেখ করেছে, যা বাজেটের ভার কমাতে এবং বিদ্যমান প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। তবে একই সঙ্গে সময়মতো কাজ না হলে তহবিল কেটে দেওয়ার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে, যা প্রকল্প পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।
ড. ওয়াহিদউদ্দিনের মতে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট ব্যয় পূর্বাভাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে এবং বর্তমানে সাড়ে ২৫,০০০ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধি মূলত ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের ফলে সৃষ্ট অতিরিক্ত ব্যয়কে নির্দেশ করে।
অবকাঠামো প্রকল্পের তহবিল বন্ধের সম্ভাবনা সরাসরি নির্মাণ সংস্থা, সরবরাহকারী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নগদ প্রবাহকে প্রভাবিত করবে। সময়মতো কাজ না হলে চুক্তি রদ বা পুনর্নির্ধারণের ঝুঁকি বাড়বে, যা বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, তহবিলের এই ধরনের শর্তাবলী বিনিয়োগকারীদের জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অবকাঠামো সেক্টরের আকর্ষণ কমে যেতে পারে। বিশেষ করে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের ব্যয়বৃদ্ধি মুদ্রা হ্রাসের প্রভাবকে তুলে ধরছে, যা বিদেশি মুদ্রা ধারকারী কোম্পানিগুলোর জন্য অতিরিক্ত খরচের কারণ হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে সরকারকে প্রকল্প পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে, যাতে সময়সীমা মেনে চলা নিশ্চিত করা যায় এবং অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। অনুমোদন প্রক্রিয়ার পুনর্বিবেচনা, প্রকল্পের অগ্রগতি রিপোর্টের স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অধিকন্তু, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের ব্যয়বৃদ্ধি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ সরবরাহের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। যদি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে অতিরিক্ত তহবিলের প্রয়োজনীয়তা বাড়বে, যা বাজেটের অন্যান্য সেক্টরে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, পরিকল্পনা কমিশনের এই সতর্কতা অবকাঠামো প্রকল্পের সময়মতো বাস্তবায়নকে বাধ্যতামূলক করে তুলেছে এবং তহবিলের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। একই সঙ্গে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের ব্যয়বৃদ্ধি মুদ্রা অবমূল্যায়নের প্রভাবকে স্পষ্ট করেছে, যা ভবিষ্যতে আর্থিক পরিকল্পনা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবে।
অবশেষে, প্রকল্প পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোকে সময়সূচি মেনে চলা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং মুদ্রা ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যাতে তহবিলের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জিত হয়।



