কুমারখালীর সদকী ইউনিয়নের দড়ি বাটিকামারা এলাকায় ২৫ জানুয়ারি ভোরের প্রায় পাঁচটায় একটি ট্রাক রডের ওপর লোড করে চলছিল। হঠাৎ করে ট্রাকটি পুলিশ পিকআপ গাড়ির পেছন থেকে জোরে ধাক্কা দিল, ফলে গাড়িটি স্লাইড করে সেতুর পিলারে আঘাত করে। গাড়ির স্টিয়ারিং হঠাৎ শক্ত হয়ে গেল, তবে চালক দ্রুত হ্যান্ডব্রেক ব্যবহার করে গাড়িটিকে নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং গাড়ি থেকে পড়ে থাকা দুইজন পুলিশকে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান।
এই ঘটনার ফলে পিকআপ গাড়ির সামনের ও পেছনের অংশে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গাড়ির দু’পাশে ভাঙচুরের চিহ্ন দেখা যায়, যা স্থানীয় পুলিশ স্টেশনের চত্বরে এখনো রাখা আছে। গাড়ির চালক জসিম উদ্দিন ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন এবং তার মুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট ছিল।
পিকআপে চড়ে থাকা চারজন কর্মকর্তা গাড়ির ধাক্কা ও গড়িয়ে পড়ার ফলে আঘাত পেয়েছেন। কুমারখালী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বসির উদ্দিন, পুলিশ সদস্য জসিম উদ্দিন (গাড়ির চালক), ফিরোজ আহমেদ এবং সজিব বিশ্বাসকে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের শিকার হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
চিকিৎসার পর চারজনই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে পর্যবেক্ষণাধীন আছেন এবং বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। আহতদের শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গাড়ির ক্ষতি ও আঘাতের মাত্রা নথিভুক্ত করে। তবে ধাক্কা দেওয়া ট্রাকটি সনাক্ত করা বা জব্দ করা এখনও সম্ভব হয়নি। স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষ ট্রাকের মালিক ও চালক অনুসন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
কুমারখালী থানার ওসির (অফিসার ইন চার্জ) জামাল উদ্দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত গাড়ি ও চালকের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আল্লাহর রহমতে এবং চালকের দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ফলে আমার চার সহকর্মী প্রাণে বেঁচে গেছেন। তারা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে মোটামুটি সুস্থ। গাড়ির সামনের ও পেছনের অংশে গুরুতর ক্ষতি হয়েছে, তবে চালক ও অন্যান্য কর্মী নিরাপদে স্থান থেকে বেরিয়ে গেছেন।”
ওসি জামাল উদ্দিনের মতে, গাড়ির ক্ষতি মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে ট্রাক চালকদের নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
পুলিশের মতে, ট্রাকটি রডের ওপর লোড করে চলছিল এবং রডের সঠিকভাবে বাঁধা না থাকায় গতি নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয়। রডের অস্থিতিশীলতা সম্ভবত ট্রাকের হঠাৎ গতি পরিবর্তনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা পিকআপ গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যায়।
এই ঘটনার তদন্তে ট্রাকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, চালকের পরিচয় এবং লোডের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো ট্রাকের মালিকানা ও লোডের নিরাপত্তা মানদণ্ড যাচাই করার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়ে নিয়েছে।
অধিক তদন্তের অংশ হিসেবে, ট্রাফিক পুলিশ ও রোড সেফটি কমিটি ঘটনাস্থলে গিয়ে রোডের অবস্থা, সেতুর কাঠামো এবং ট্রাফিক সিগন্যালের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করবে। এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে রোডের নিরাপত্তা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থল থেকে গাড়ির ধাক্কা শোনার পর তৎক্ষণাৎ সাহায্যের জন্য ডাক দিয়েছেন। কিছু বাসিন্দা গাড়ি থেকে পড়ে থাকা দুইজন পুলিশকে সড়কে সাহায্য করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কাজে সহায়তা করেন।
প্রাথমিক তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, ট্রাকের চালককে অপরাধমূলক দায়ের আওতায় আনা হতে পারে, তবে এখনো পর্যন্ত কোনো গ্রেফতার হয়নি। পুলিশ ট্রাকের মালিক ও চালক সনাক্তের জন্য রোড ক্যামেরা রেকর্ড, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন তথ্য এবং গ্যাংসার সনাক্তকরণ সিস্টেম ব্যবহার করছে।
এই ঘটনার পর কুমারখালী থানার উচ্চতর কর্মকর্তারা নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। ভবিষ্যতে রোডে লোডেড ট্রাকের চলাচল নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে অতিরিক্ত রোড প্যাট্রোল চালু করা হবে।
দুর্ঘটনা সম্পর্কিত সকল তথ্য সংগ্রহ ও তদন্তের অগ্রগতি আদালতে উপস্থাপন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে তদন্ত চলমান, তাই নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।



