28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধআইসিটি-১-এ হাসিনুর রহমানের জবাবদিহি শোনানো হল

আইসিটি-১-এ হাসিনুর রহমানের জবাবদিহি শোনানো হল

হাসিনুর রহমান, যিনি জোরপূর্বক নিখোঁজের শিকার, আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১ (আইসিটি‑১)‑এ দ্বিতীয় প্রসিকিউশন সাক্ষী হিসেবে তার জবাবদিহি প্রদান করেন। তিনি যে মামলায় সাক্ষ্য দিচ্ছেন, তা জয়েন্ট ইন্টাররগেশন সেল (JIC)‑এ অবৈধ আটক ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে, যেখানে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (DGFI) জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে।

এই মামলা উচ্ছেদপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য বারোজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে, এবং ২০১৬ থেকে আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত অন্তত চব্বিশজনের অবৈধ আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে। আদালতে মামলার মূল দাবি হল, জিকেডি‑এর অধীনে পরিচালিত JIC-এ রাজনৈতিক ও মতামতভিত্তিক লেখকদের লক্ষ্য করে গোপনীয়ভাবে কারাবন্দি করা হয়েছে।

হাসিনুর তার সাক্ষ্যে জানান যে, ২০১৮ সালে তাকে জোরপূর্বক নিখোঁজ করা হয় এবং ২০২০ পর্যন্ত মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত তিনি গোপন কারাবন্দি কেন্দ্রে রাখা ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, তাকে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত গোপন আটকস্থানে রাখা হয়, যা DGFI‑এর নিয়ন্ত্রণে থাকা বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

অধিকন্তু, তিনি বলেন, একটি সেনা কর্মকর্তা তাকে তার লেখালেখি নিয়ে প্রশ্ন করেন, বিশেষত তখনকার সেনা প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদকে সমালোচিত প্রবন্ধগুলো সম্পর্কে। সেই সময়ে তাকে শারীরিক আঘাত, বিদ্যুৎ শক এবং অন্যান্য নির্যাতনের শিকার করা হয়।

হাসিনুরের বর্ণনা অনুযায়ী, তার ওপর ধারাবাহিকভাবে তার ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের সমালোচনা এবং আওয়ামী লীগের বিরোধী মতামত নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, নির্যাতনের মধ্যে শারীরিক হিংসা এবং বিদ্যুৎ শকের পাশাপাশি মানসিক চাপও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্যের প্রথম অংশ রেকর্ড করার পর, বিচারকগণ মধ্যাহ্ন বিরতির জন্য শুনানি স্থগিত করেন এবং দুপুরের খাবারের পর বাকি অংশ শোনার জন্য সময় নির্ধারণ করেন। এই বিরতির সময় আদালতে উপস্থিত সকল পক্ষকে পরবর্তী সেশনের প্রস্তুতির জন্য সময় দেওয়া হয়।

আইসিটি‑১, যা মূলত যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মামলায় বিচার করে, এখন এই জোরপূর্বক নিখোঁজ এবং নির্যাতনের মামলায়ও দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। আদালত এই ধরনের অভিযোগকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের অধীনে মূল্যায়ন করবে বলে জানিয়েছে।

প্রসিকিউশন দল এই সাক্ষ্যকে প্রমাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ব্যবহার করে, যাতে JIC‑এর গোপনীয়তা ভেঙে অবৈধ আটক ও নির্যাতনের প্যাটার্ন প্রকাশ করা যায়। তারা আরও উল্লেখ করেছে, এই ধরনের গোপনীয় কারাবন্দি ব্যবস্থা দেশের আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

অভিযুক্তদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য বারোজনের নাম রয়েছে, তবে এখনো পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া বা সাক্ষ্য প্রদান করা হয়নি। আদালত পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণের জন্য উভয় পক্ষকে নথিপত্র প্রস্তুত করতে নির্দেশ দিয়েছে।

এই মামলায় সংবেদনশীল তথ্যের প্রকাশ ও গোপনীয়তা রক্ষার জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। বিচারকগণ উল্লেখ করেছেন, সব সাক্ষ্য ও প্রমাণ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই করা হবে, যাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments