28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যবাংলাদেশে অনুমানিক ৮২ লক্ষ মানুষ অবৈধ মাদক ব্যবহারকারী, ৪.৮৮% জনসংখ্যা

বাংলাদেশে অনুমানিক ৮২ লক্ষ মানুষ অবৈধ মাদক ব্যবহারকারী, ৪.৮৮% জনসংখ্যা

বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (BMU) ও রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস লিমিটেড (RMCL) যৌথভাবে পরিচালিত একটি জাতীয় সমীক্ষা প্রকাশ করেছে যে বর্তমানে দেশের প্রায় ৮২ লক্ষ মানুষ এক বা একাধিক অবৈধ মাদক ব্যবহার করছেন। এই সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৮৮ শতাংশের সমান। সমীক্ষার ফলাফল আজ BMU-র একটি অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত হয়েছে।

সমীক্ষা ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গত বছর চালানো হয় এবং নেটওয়ার্ক স্কেল‑আপ পদ্ধতি (NSUM) ব্যবহার করে ১৩টি জেলা ও ২৬টি উপজেলা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ডেটা সংগ্রহের তদারকি দেশের মাদক নিয়ন্ত্রণ বিভাগ (DNC) করেছে। এই পদ্ধতি গোপনীয়তা রক্ষা করে বৃহৎ পরিসরে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনুমান করতে সক্ষম।

প্রকল্পের প্রধান গবেষক প্রফেসর সাইফ উল্লাহ মুনশি, যিনি মৌলিক বিজ্ঞান ও প্যারাক্লিনিক্যাল সায়েন্সের ডিন, সমীক্ষার প্রধান ফলাফল উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, মোট অনুমানিক ব্যবহারকারী সংখ্যা ৮,১৯৪,৬০৫ ব্যক্তি, যা দেশের মাদক সমস্যার বিস্তৃতি নির্দেশ করে।

অবৈধ মাদক ব্যবহারকারী গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৬,০০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করেন বলে সমীক্ষা জানায়। এই ব্যয় ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থার ওপর নির্ভরশীল হলেও, তরুণদের মধ্যে মাদক ব্যবহার বাড়ার ফলে পরিবারিক ও সামাজিক চাপ বাড়তে পারে।

বয়স অনুযায়ী বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩৩ শতাংশ ব্যবহারকারী প্রথমবার মাদক গ্রহণ করেন ৮ থেকে ১৭ বছর বয়সের মধ্যে, আর ৫৯ শতাংশ ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে প্রথমবার ব্যবহার করেন। এই তথ্য তরুণ প্রজন্মের মাদক সংস্পর্শের ঝুঁকি ও প্রারম্ভিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

প্রধানত ব্যবহৃত মাদকের মধ্যে গাঁজা সর্বোচ্চ, যার ব্যবহারকারী প্রায় ৬১ লক্ষের কাছাকাছি। গাঁজা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহজলভ্য এবং তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়।

এরপর রয়েছে ইয়াবা বা মেথ্যামফেটামিন, যার ব্যবহারকারী সংখ্যা প্রায় ২২.৯২ লক্ষ। ইয়াবা দ্রুত শক্তি ও উত্তেজনা প্রদান করে, তবে এর আসক্তি এবং শারীরিক ক্ষতি উচ্চমাত্রায় দেখা যায়।

মদ্যপানও উল্লেখযোগ্য, মোট ব্যবহারকারী প্রায় ২০.২০ লক্ষ। যদিও মদ্যপান আইনগতভাবে অনুমোদিত, তবে অতিরিক্ত সেবন স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে এবং অন্যান্য অবৈধ মাদকের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার বাড়তে পারে।

প্রায় ৩৯,০০০ ব্যক্তি ইনজেকশন মাধ্যমে মাদক গ্রহণ করেন, যা HIV, হেপাটাইটিস ও অন্যান্য সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। ইনজেকশন ব্যবহারকারী গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতা প্রোগ্রাম চালু করা জরুরি।

অন্যান্য ব্যবহৃত পদার্থের মধ্যে কোডিন ফসফেটের ব্যবহারকারী ৩৩.৯ লক্ষ, হেরোইনের ব্যবহারকারী ৩২.২৬ লক্ষ, এবং ঘুমের ওষুধের ব্যবহারকারী ৩.০৫ লক্ষ। ক্রিস্টাল মেথ (আইস) ব্যবহারকারী ১১,৮৮৮, এলএসডি ৫,০৯৫ এবং অন্যান্য মাদকের ব্যবহারকারী ১,৩৫,৮৬৪ জন।

মাদক ব্যবহার হার বিভাগভেদে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখায়; ময়মনসিংহে সর্বোচ্চ ৬.০২ শতাংশ, রংপুরে ৬.০০ শতাংশ এবং চট্টগ্রামে ৫.৫০ শতাংশ রেকর্ড হয়েছে। এই বৈচিত্র্য স্থানীয় সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উপাদানের প্রভাব নির্দেশ করে।

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, মাদক সমস্যার মোকাবিলায় তরুণদের জন্য শিক্ষা ও প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি বাড়ানো, ইনজেকশন ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপদ সেবার ব্যবস্থা এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে লক্ষ্যভিত্তিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট। আপনি কি আপনার পরিবার ও সম্প্রদায়ে মাদক সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়াতে প্রস্তুত?

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments