20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের ঘোষণা: দুর্নীতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক...

বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের ঘোষণা: দুর্নীতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করা হবে

চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে রবিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত বিএনপি সমাবেশে দলীয় চেয়ারপার্সন তারেক রহমান দেশের আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, জনগণের সমর্থন পেলে কঠোর পদক্ষেপে আইন প্রয়োগ করে সাধারণ মানুষকে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ দিতে চান এবং নির্বাচিত হলে দুর্নীতির কোনো ছাপ না রেখে শাসন পরিচালনা করবেন।

সমাবেশে তারেক রহমান জোর দিয়ে বললেন, পরিকল্পনা যতই হোক না কেন, যদি আইনশৃঙ্খলা বজায় না থাকে তবে কোনো নীতি সফল হতে পারে না। তিনি দু’টি মূল বিষয়কে অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন—দুর্নীতি নির্মূল এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই দুই ক্ষেত্রই দেশের জনগণকে অতীতের কিছু সময়ে তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে, তিনি উল্লেখ করেন।

বিএনপি পূর্বে নিরাপত্তা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপে সাফল্য দেখিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, জনগণ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারলে ব্যবসা, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান সবই স্বাভাবিকভাবে চালু থাকবে। তাই, যদি দল সরকার গঠন করে, তবে দুর্নীতির কোনো রূপই সহ্য করা হবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অপরাধীর পরিচয় যাই হোক না কেন, দেশের আইন অনুযায়ী সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তারেক রহমান সমাবেশে উপস্থিত লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে স্পষ্ট করে জানান, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে যদি কোনো ব্যক্তি আইন লঙ্ঘন করে বা দুর্নীতির মাধ্যমে বাধা সৃষ্টি করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, দুর্নীতি করুক বা না করুক, সবাইকে সমান আইনি শাস্তি দেওয়া হবে এবং কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার পরিকল্পনাও তারেকের বক্তৃতার মূল অংশে উঠে আসে। তিনি উল্লেখ করেন, এই অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিনের একটি বড় দাবি নিয়ে আছে। পূর্বে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এই উদ্যোগের সূচনা করেছিলেন, তবে সময়ের অভাবে তা সম্পূর্ণ করা যায়নি। গত পনেরো বছরে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তিনি বলেন।

বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়, তবে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, বিনিয়োগ ও নীতি চালু করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, বন্দর, রেলওয়ে ও সড়ক নেটওয়ার্কের আধুনিকায়ন, শিল্প পার্কের উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিএনপি নেতাদের এই ঘোষণার পর বিরোধী দলগুলোর কাছ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, দুর্নীতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধুমাত্র ঘোষণার মাধ্যমে নয়, বাস্তবায়নের মাধ্যমে সম্ভব হবে। এছাড়া, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও প্রশাসনিক সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে, তারেক রহমানের মতে, দলটি ইতিমধ্যে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করেছে।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে, তারেকের এই বক্তব্যের রাজনৈতিক প্রভাবও স্পষ্ট। তিনি উল্লেখ করেন, দুর্নীতি ও নিরাপত্তা নিয়ে জনগণের উদ্বেগ দূর করা হলে ভোটারদের আস্থা অর্জন করা সহজ হবে। একই সঙ্গে, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক কেন্দ্রেরূপে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি অঞ্চলীয় ভোটারদের সমর্থন বাড়াতে পারে।

বিএনপি এইবারের সমাবেশে নির্বাচনের পূর্বে ভোটারদের কাছে তাদের অগ্রাধিকারগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। দুর্নীতি নির্মূল, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার পরিকল্পনা তাদের মূল মন্ত্র হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। ভোটের দিন এ সব বিষয়ের বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে, তা সময়ই বলবে।

বিএনপি দলীয় নেতৃত্বের এই ঘোষণার পর, নির্বাচনী প্রচারাভিযান আরও তীব্র হবে বলে আশা করা যায়। ভোটারদের কাছে প্রতিশ্রুতি兑现 করতে দলকে কেবল র‍্যালি নয়, বাস্তব নীতি ও কর্মসূচি উপস্থাপন করতে হবে। এদিকে, সরকারী পক্ষও নিজেদের সাফল্য তুলে ধরে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। দুই দলের মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও গতিশীল করে তুলবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments