মুম্বাই পুলিশ নাদিম খানকে গ্রেফতার করেছে, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে ‘দুরুন্ধর’ ছবিতে কাজ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি প্রায় দশ বছর ধরে এক গৃহকর্মীকে যৌন শোষণ করেছেন এবং তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারিত করেছেন।
‘দুরুন্ধর’ ছবিতে রান্নার দায়িত্বে থাকা আখলাক চরিত্রে অভিনয় করা নাদিম খানকে বৃহস্পতিবার মালভানি পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অফিসিয়াল সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে আছেন এবং তদন্ত চলমান।
অভিযোগকারী হলেন ৪১ বছর বয়সী এক গৃহকর্মী, যিনি বহু বছর ধরে বিভিন্ন অভিনেতার বাড়িতে কাজ করেছেন। তার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে তিনি নাদিম খানের সঙ্গে প্রথম পরিচয় করেন এবং পেশাগত সম্পর্কের পরিণতিতে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
গৃহকর্মী দাবি করেন, নাদিম খান তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্কের অনুমতি দেন। এই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তিনি প্রায় দশ বছর ধরে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখেন বলে অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ অনুসারে, এই সম্পর্কটি গৃহকর্মীর বাড়ি এবং নাদিম খানের ভারসোভার বাড়িতে উভয় স্থানে ঘটেছে। গৃহকর্মী বিশ্বাস করতেন, এই সম্পর্কের শেষ পর্যায়ে বিয়ে হবে, তবে পরে অভিনেতা বিয়ে প্রত্যাখ্যান করলে তিনি পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন।
প্রাথমিকভাবে গৃহকর্মী ভারসোবা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। তবে, প্রথম শারীরিক সম্পর্ক গৃহকর্মীর বাড়িতে ঘটায় এবং গৃহকর্মী মালভানি এলাকার বাসিন্দা হওয়ায়, বিষয়টি মালভানি পুলিশের হেফাজতে স্থানান্তরিত হয়।
একজন অফিসার মিড-ডে-কে জানান, “প্রথম শারীরিক সম্পর্ক গৃহকর্মীর বাড়িতে ঘটেছে, যা মালভানি পুলিশের অধিক্ষেত্রের মধ্যে, তাই ভারসোবা পুলিশ শূন্য FIR দিয়ে মামলাটি মালভানি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।”
মালভানি পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রেজিস্টার করে নাদিম খানের গ্রেফতার কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে তদন্ত চলমান এবং অতিরিক্ত প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।
অধিক তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত নাদিম খানকে হেফাজতে রাখা হবে এবং আদালতে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হবে। মামলার অগ্রগতি এবং আদালতের রায়ের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
এই ধরনের সংবেদনশীল মামলায় গোপনীয়তা রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ, তাই গৃহকর্মীর পরিচয় এবং ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ না করে রিপোর্ট করা হয়েছে। মামলার ফলাফল নির্ভর করবে তদন্তের গভীরতা এবং প্রমাণের ওপর।



