রবিবার সকাল ৯ টা অর্ধে ঢাকা শহরের বসুন্ধরা হাইকমিশনের অফিসে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক জামায়াত-এ-ইসলামি আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। দুজনের সাক্ষাৎ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনার জন্য যুক্তরাজ্যের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষের লক্ষ্য ছিল নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করা।
বৈঠকের সময়সূচি অনুযায়ী, সারাহ কুক শফিকুর রহমানকে বসুন্ধরা হাইকমিশনের ভেরিফায়েড এক্সে স্বাগত জানিয়ে, যুক্তরাজ্যের নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ নীতি ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রগতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এই নির্বাচনকে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সকল প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
ব্রিটিশ দিক থেকে হাইকমিশনের উপহাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান, রাজনীতি বিভাগীয় প্রধান টিমোথি ডাকেট এবং দ্বিতীয় সচিব (রাজনীতি) কেট ওয়ার্ড উপস্থিত ছিলেন। তারা সকলেই নির্বাচনের নিরাপত্তা, ভোটার তালিকা আপডেট এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেন। এছাড়া, দু’পক্ষের মধ্যে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময়ও হয়।
জামায়াত-এ-ইসলামির দিক থেকে দলীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন এবং আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মাহমুদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। তারা হাইকমিশনের সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও সমর্থন চেয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেন। যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ মিশনের ভূমিকা, ভোটার শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভোটার অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। জামায়াত-এ-ইসলামি দলও নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
সারাহ কুক উভয় পক্ষের আশা প্রকাশ করেন যে, এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং নির্বাচনের ফলাফল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি। জামায়াত-এ-ইসলামির প্রতিনিধিরাও একই দৃষ্টিভঙ্গি ভাগ করে নেন এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
বৈঠকে দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, বাণিজ্যিক বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে আরও গতিশীল করার জন্য প্রস্তাবনা দেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের তরল জ্বালানি, রপ্তানি পণ্য এবং সেবা খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন, আর জামায়াত-এ-ইসলামি দল দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যিক পরিবেশ উন্নয়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বৈঠকের পর উভয় পক্ষের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ বজায় রাখার এবং নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ মিশনের কার্যক্রম সমন্বয় করার জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা গঠন করা হবে। ভবিষ্যতে নির্বাচনের প্রস্তুতি, ভোটার তালিকা পর্যালোচনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে যৌথ কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ সেশনের আয়োজনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রয়েছে। এই উদ্যোগগুলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ পরিচালনা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক এবং জামায়াত-এ-ইসলামি আমির শফিকুর রহমানের এই বৈঠক নির্বাচনের স্বচ্ছতা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার শক্তিশালীকরণ এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন দিক উন্মোচনের লক্ষ্যে পরিচালিত হয়। উভয় পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সফলতা এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মঞ্চে গণতান্ত্রিক সুনাম বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



