২৫ জানুয়ারি রবিবার চট্টগ্রামের একটি পাঁচ‑তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান চাঁদাবাজি কীভাবে নির্মূল করা যায় এবং পরিবেশ সংরক্ষণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন।
সকালের সেশনটি চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী অর্ধশত কলেজ‑বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনশো অধিক শিক্ষার্থীকে একত্রিত করে, যেখানে তরুণরা দেশের উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এক শিক্ষার্থী রুট‑লেভেলে চাঁদাবাজি সমস্যার সমাধান কী হবে জিজ্ঞেস করেন। তারেক রহমান উত্তর দেন যে কোনো পরিকল্পনা সফল হবে না যদি আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির দুইটি মূল দিক সমাধান না করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, চাঁদাবাজি চালু থাকা দুই প্রকারের গোষ্ঠী আছে—একটি হল ব্যক্তিগত স্বার্থে কাজ করা মানুষ, আরেকটি হল পেশাদার অপরাধী, যাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সরকার যদি দুর্নীতি সহ্য না করার স্পষ্ট বার্তা দেয়, তবে চাঁদাবাজি কমে ২০‑৩০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পাবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি সরকারের নীতি‑নির্ধারণে দৃঢ়তা দাবি করেন, যাতে সমাজের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
এক অন্য শিক্ষার্থী তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নের প্রশংসা করে, পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষার জন্য বিএনপির নির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে কিনা জিজ্ঞেস করেন। তারেক রহমান উত্তর দেন, জলাবদ্ধতা মোকাবেলায় খাল খননকে প্রধান কৌশল হিসেবে গ্রহণ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অল্প বৃষ্টিতে পানি জমে, যা নগর‑গ্রাম উভয়ই প্রভাবিত করে।
বিএনপি পরিকল্পনা অনুযায়ী সারা দেশে ২০,০০০ কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, খাল খনন কেবল পানির সঞ্চয় নয়, বরং ভূগর্ভস্থ জলের স্তরকে পুনরায় পূরণে সহায়তা করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে পানির ঘাটতি কমাবে।
বায়ু দূষণ মোকাবেলায় গাছ লাগানোর ব্যাপারেও তিনি দৃঢ় পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। পাঁচ বছরের মধ্যে ৫০ কোটি গাছ রোপণ করা হবে বলে তিনি জানান, যা শহরের বায়ু মান উন্নত করবে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করবে।
এই ঘোষণাগুলি তারেক রহমানের পূর্ববর্তী মন্তব্যের ধারাবাহিকতা, যেখানে তিনি দুর্নীতি ও জবাবদিহিতা কাঠামোকে শক্তিশালী করার কথা উল্লেখ করেছেন। এখন তিনি তরুণদের সামনে বাস্তবিক কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করে, বিএনপির নীতি‑মুখী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। ভবিষ্যতে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে রাজনৈতিক আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে, বিশেষ করে সরকারী ও বিরোধী দলের পরিবেশ নীতি ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিতর্কে।
সামগ্রিকভাবে, চাঁদাবাজি দমন, জলাবদ্ধতা সমাধান এবং গাছ রোপণকে কেন্দ্র করে তারেক রহমানের প্রস্তাবনা দেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের সমন্বয় ঘটাতে চায়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, বিএনপি এখনো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবিক কর্মসূচি হিসেবে এই পরিকল্পনাগুলোকে উপস্থাপন করছে।



