গুলশানের দ্যা ওয়েস্টিনে রবিবার দুপুর ১২:৩০ টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এম নাসির উদ্দিন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (২০২৬) সংক্রান্ত কমিশনের সামগ্রিক প্রস্তুতি সম্পর্কে সব বিদেশি কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য গৃহীত পদক্ষেপগুলোকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জানানো।
বৈঠকে দ্যা ওয়েস্টিনের বলরুমে বাংলাদেশে অবস্থিত দূতাবাস ও মিশনের সকল কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সিইসি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে কমিশন যে প্রক্রিয়াগুলো গ্রহণ করেছে, সেসব সম্পর্কে কূটনীতিকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং পুরো প্রস্তুতিতে তাদের সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
সিইসি জানান, ভোটার তালিকা আপডেট, ভোটার সনাক্তকরণ, ভোটকেন্দ্রের গঠন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সহ প্রতিটি ধাপের বিস্তারিত তথ্য কূটনীতিকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি জোর দেন, কোনো লোকচুরি বা অনিয়মের সম্ভাবনা নেই এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।
বৈঠকে নিরাপত্তা পরিকল্পনাও বিশদভাবে আলোচনা করা হয়। সিইসি ব্যাখ্যা করেন, নির্বাচনকালীন ভোটার ও কর্মীদের সুরক্ষার জন্য পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ আনসার একত্রে মোতায়েন করা হবে। কূটনীতিকরা এই সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশংসা করে, দেশের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারের প্রস্তুতিকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ। তারা সকলেই সিইসির বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকল সংস্থার সমন্বয়কে গুরুত্বারোপ করেন।
কূটনীতিকরা উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ সরকার যে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা করতে চাচ্ছে, তা প্রশংসনীয়। তারা কমিশনের প্রস্তুতিতে আস্থা প্রকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সহযোগিতা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
সিইসি আবারও জোর দিয়ে বলেন, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা কমিশনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রতিটি ধাপের জন্য কমিশন সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে এবং ফলস্বরূপ একটি গ্রহণযোগ্য ফলাফল অর্জন করবে।
বৈঠকের শেষে কূটনীতিকদের কাছ থেকে পরিষ্কার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় যে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে কমিশনের পরিকল্পনা যথাযথ এবং বাস্তবায়নযোগ্য। তারা উল্লেখ করেন, এই ধরনের প্রস্তুতি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বাড়াবে।
বৈঠকের সময় কূটনীতিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে সিইসি নির্বাচন আইন, ভোটার তালিকা যাচাই, ভোটকেন্দ্রের সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পদ্ধতি সম্পর্কে বিশদ ব্যাখ্যা দেন। সকল প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর পাওয়ার পর কূটনীতিকরা সম্মত হন যে, তারা পুরো প্রক্রিয়ার পর্যবেক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।
এই বৈঠকটি নির্বাচন কমিশনের পূর্ব প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে কমিশন তার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে চায়, যা দেশের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াবে।
বৈঠকের পর সিইসি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে কোনো অনিচ্ছাকৃত সমস্যার উদ্ভব হলে তা দ্রুত সমাধানের জন্য সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা হবে। তিনি কূটনীতিকদের আশ্বাস দেন, ভোটারদের নিরাপত্তা ও নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে কমিশন সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
সারসংক্ষেপে, দ্যা ওয়েস্টিনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিদেশি কূটনীতিকরা নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিতে পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।



