19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের দুর্নীতি দমন প্রতিশ্রুতি

বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের দুর্নীতি দমন প্রতিশ্রুতি

চট্টগ্রাম পোলো গ্রাউন্ডে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত বিএনপি নির্বাচনী জনসভায় দলীয় চেয়ারপার্সন তারেক রহমান জনগণের সামনে স্পষ্ট করে জানান, তৃতীয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় আসলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি এ কথা উল্লেখ করে বলেন, ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন করার সুযোগ পেলে দলটি আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং দুর্নীতির শিকড় চিরতরে নির্মূল করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

তারেক রহমানের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনকালে যারা অপরাধ-অপকর্মে লিপ্ত হয়েছিল, তাদের কোনো রকম ছাড় দেওয়া হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দলীয় কোনো সদস্য হলেও দুর্নীতির দায়ে শাস্তি থেকে রক্ষা পায়নি, এবং এই নীতি ভবিষ্যতে আরও দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করা হবে।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে আইনশৃঙ্খলা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, এমন প্রতিশ্রুতি তিনি আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন। তারেক রহমান উল্লেখ করেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দেশের ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে, যা ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বক্তা অতীতের একটি তুলনা তুলে ধরেন, যেখানে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনকালে দুর্নীতির সূচক ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। তিনি বলেন, ওই সময়ে দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় অনিয়ম ও দুর্নীতির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল, যা দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছিল।

এর বিপরীতে, তারেক রহমান দাবি করেন যে, ২০০১ সালের পর থেকে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গে দুর্নীতির সূচক ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারী নীতি ও তদারকি ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ফলে অবৈধ লেনদেন কমে গিয়েছে এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিএনপি নেতা আরও উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া দেশের দুর্নীতির কড়াল গ্রাস থেকে মুক্তি দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নেওয়া সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলো দেশের আর্থিক স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে পুনরুজ্জীবিত করেছে।

তারেক রহমানের শেষ মন্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “দুর্নীতির টুটি চেপে ধরা হবে” এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। এই বাক্যটি তারেকের দৃঢ় সংকল্পকে প্রকাশ করে, যা তিনি ভোটারদের কাছে পুনরায় নিশ্চিত করতে চেয়েছেন।

বিএনপি’র এই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে আওয়ামী লীগের কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে পার্টির মুখপাত্র পূর্বে উল্লেখ করেছেন যে, দুর্নীতি মোকাবেলায় সরকারী নীতি ও আইনগত কাঠামোকে শক্তিশালী করা জরুরি। বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে উভয় দলই দুর্নীতি বিরোধী পদক্ষেপকে ভোটারদের কাছে অগ্রাধিকার হিসেবে উপস্থাপন করছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দেশজুড়ে রাজনৈতিক প্রচারণা তীব্রতর হচ্ছে। বিএনপি’র এই নতুন প্রতিশ্রুতি ভোটারদের মনোভাব গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত দুর্নীতি-সংক্রান্ত উদ্বেগের ওপর ভিত্তি করে। নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে এই বিষয়টি কীভাবে কাজ করবে, তা পরবর্তী সপ্তাহে স্পষ্ট হবে।

সারসংক্ষেপে, তারেক রহমানের দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত ঘোষণাটি বিএনপি’র নির্বাচনী কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি অতীতের দুর্নীতি সমস্যাকে তুলে ধরে, বর্তমান ও ভবিষ্যতে কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন। আগামী নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা ও দুর্নীতি মোকাবেলায় গৃহীত নীতিগুলোর বাস্তবায়নকে নির্ধারণ করবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments