রবিবার সকাল প্রায় দশটায় বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের গোপনীয় শাখার অফিস সহকারী জহিরুল ইসলামকে হুমকি ও আক্রমণ করা এক যুবকের বিরুদ্ধে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাটি জেলা প্রশাসকের অফিসের সামনে ঘটেছে এবং স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর তৎক্ষণাৎ হস্তক্ষেপের ফলে সন্দেহভাজনকে আটক করা যায়।
আটক করা যুবকের নাম ইব্রাহিম, বয়স ত্রিশ বছর, তিনি বরগুনা সদর ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ডের বাশবুনিয়া গ্রাম থেকে। ইব্রাহিমের পিতার নাম ইউনুস হাওলাদার, যা স্থানীয় রেকর্ডে উল্লেখ আছে। তার উপস্থিতি এবং কার্যকলাপ স্থানীয় পুলিশ রেজিস্ট্রিতে নথিভুক্ত হয়েছে।
জহিরুল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে নয়টা থেকে ইব্রাহিম অফিসের সামনে ঘুরে বেড়াচ্ছিল এবং বারবার জেলা প্রশাসক স্যারকে খোঁজ করছিল। দশটায় অফিসের দরজা খুলে যখন তিনি প্রবেশ করলেন, ইব্রাহিম তার দিকে ধাক্কা দিয়ে অফিসের ভিতরে ঢুকে পড়ে। এরপর তিনি দ্রুত জেলা প্রশাসকের অফিস কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করে, কিন্তু সেখানেও প্রবেশ করতে না পেরে আবার অফিসের সামনে ফিরে আসে।
ইব্রাহিমের হাতে একটি টিউবওয়েল খোলার রেঞ্জ (পাইপ রেঞ্জ) ছিল, যা তিনি জহিরুলের কোমর থেকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে। রেঞ্জটি জহিরুলের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার সময় ইব্রাহিম তার দিকে আঘাত করে, ফলে জহিরুলের হাত ফেটে যায়। এই আক্রমণের ফলে সহকারীকে তীব্র শারীরিক ক্ষতি হয় এবং তিনি তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন।
ইব্রাহিমকে তৎক্ষণাৎ উপস্থিত থাকা নিরাপত্তা কর্মী ও অন্যান্য কর্মচারীর সহায়তায় আটক করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে বরগুনা সদর থানায় স্থানান্তরিত করে, সেখানে পুলিশ তার জবাবদিহি গ্রহণ করে। গ্রেপ্তারির সময় ইব্রাহিম ধারাবাহিকভাবে বলছিল, “আমি জেল থেকে বের হয়ে তোমাদের মেরে ফেলব,” যা তার হুমকির তীব্রতা নির্দেশ করে।
বরগুনা জেলা প্রশাসন থেকে সহকারী জেলা প্রশাসক (এডিসি জেনারেল) অনিমেষ বিশ্বাস জানান, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে জানেন এবং ইব্রাহিমকে পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, তদন্ত চলমান এবং আইনগত ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়া হবে।
বরগুনা সদর থানার ওসি মো. আব্দুল আলীমও জানান, ইব্রাহিমের জিজ্ঞাসাবাদ বর্তমানে চলছে। তিনি বলেন, তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
পুলিশের মতে, ইব্রাহিমের হাতে থাকা টিউবওয়েল রেঞ্জটি অফিসের সরঞ্জাম ঘর থেকে নেওয়া হয়েছে এবং তা কোনো অনুমোদন ছাড়া ব্যবহার করা হয়নি। রেঞ্জটি এখনই প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং তদন্তে ব্যবহার করা হবে।
আইনি দিক থেকে, হুমকি, শারীরিক আক্রমণ এবং অস্ত্র ব্যবহার সংক্রান্ত ধারা অনুযায়ী ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হবে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী তাকে অপরাধের প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর জেলা প্রশাসকের অফিসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত গার্ড এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এমন ধরনের ঘটনা রোধ করা যায়। কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে।
স্থানীয় জনগণ এই ঘটনার প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবি জানিয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ উভয়ই নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতে এ ধরনের হুমকি ও আক্রমণ রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে।



