সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলা সরকার কর্তৃক প্রেসিডেন্টের অপহরণ ঘটার সঙ্গে সঙ্গে তার তিনজন ভাই, হোর্হে রদ্রিগেজ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়োকে তৎক্ষণাৎ মৃত্যুর হুমকি জানানো হয়। হুমকির মূল বার্তা ছিল, “পনেরো মিনিটের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হবে”‑এর সমতুল্য, যা অপহরণকালের প্রথম মুহূর্ত থেকেই শোনানো হয়।
রদ্রিগেজ এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানান, বর্তমান সময়ে তাদের প্রধান লক্ষ্য হল দেশের শান্তি বজায় রাখা, বন্দি করা ব্যক্তিদের মুক্তি নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা সামরিক বাহিনীর হাতে সংরক্ষণ করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে সহযোগিতা কোনো স্বেচ্ছা সিদ্ধান্ত নয়, বরং ধারাবাহিক হুমকি ও ব্ল্যাকমেইল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
মার্কিন সরকার এই ঘটনায় সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করে, এবং ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বের প্রশংসা করে। মার্কিন সরকার উল্লেখ করে, যদি রদ্রিগেজ ভেনেজুয়েলা সরকারের বিশাল তেলক্ষেত্রের প্রবেশাধিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রদান করেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে। তবে একই সঙ্গে মার্কিন সরকার রদ্রিগেজকে সতর্ক করে, তিনি যদি প্রত্যাশিত দিক থেকে বিচ্যুত হন তবে তার মূল্য মাদুরোর চেয়েও বেশি হতে পারে।
রদ্রিগেজ নিজে এই পরিস্থিতিকে “ধরা পড়া প্রেসিডেন্ট” হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, বর্তমান সংকটের মুখে তার সমর্থকদের আশ্বস্ত করা প্রয়োজন। তিনি কৌশলগত বিচক্ষণতা এবং ধৈর্যের মাধ্যমে এই অস্থিরতা অতিক্রম করা সম্ভব হবে বলে দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ভেনেজুয়েলা সরকারের বর্তমান নীতি সম্পূর্ণভাবে মার্কিন সরকারের নির্দেশনার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে। একদিকে মার্কিন সরকারের প্রশংসা, অন্যদিকে রদ্রিগেজের হুমকির মিশ্রণ ভেনেজুয়েলা ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত মোড়ে নিয়ে এসেছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই ঘটনাকে মার্কিন সরকারের একতরফা প্রভাবের স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। ভেনেজুয়েলা সরকারের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা কাঠামো ও বহিরাগত সম্পর্কের পুনর্গঠন এখন কিভাবে হবে, তা আগামী সপ্তাহে নির্ধারিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনার বিষয় হবে।
ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলা সরকার যদি মার্কিন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় রাখে, তবে তেল রপ্তানি ও অর্থনৈতিক সহায়তার ক্ষেত্রে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। অন্যদিকে, যদি দেশীয় সামরিক ও রাজনৈতিক গোষ্ঠী স্বায়ত্তশাসন পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে, তবে মার্কিন সরকারের নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। এই দ্বিমুখী গতিপথই ভেনেজুয়েলা সরকারের পরবর্তী রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি হবে।



