ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেনস্কির ওপর তীব্র আক্রমণ চালিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি জেলেনস্কিকে অস্থির ও অযৌক্তিক নেতা হিসেবে চিহ্নিত করে, তার নীতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই বক্তব্য ইরান-ইউক্রেন সম্পর্কের বর্তমান উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
আরাগচি জেলেনস্কির এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, ইউক্রেনের সরকার সাধারণ নাগরিকদের প্রাণহানি করে ক্ষমতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তিনি যুক্তি দিয়েছেন, জেলেনস্কি ও তার সামরিক নেতৃত্বের কিছু সদস্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের করদাতার অর্থ ব্যবহার করে নিজেদের আর্থিক স্বার্থ পূরণে লিপ্ত। এই অর্থকে তিনি ‘দুর্নীতিগ্রস্ত জেনারেলদের পকেট ভরাতে’ ব্যবহার করার অভিযোগ তুলেছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেছেন, বিদেশি হুমকি মোকাবেলায় ইউক্রেনকে অন্য দেশের সাহায্য চাওয়ার দরকার নেই। তিনি বলছেন, ইউক্রেনের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন প্রয়োজন হলেও, তা অন্য দেশের উপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। এই বক্তব্য ইরানের স্বনির্ভরতা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আরাগচি জেলেনস্কির নীতিকে ‘জাতিসংঘের সনদ লঙ্ঘনকারী অবৈধ আগ্রাসন’ মোকাবিলার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের করদাতার অর্থ দু’হাতে লুটে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে তিনি জেলেনস্কির যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানানোকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই দ্বৈত মানদণ্ডকে তিনি ‘অসঙ্গতিপূর্ণ’ বলে সমালোচনা করেছেন।
পররাষ্ট্র নীতির দৃষ্টিকোণ থেকে আরাগচি উল্লেখ করেছেন, বিশ্ব সম্প্রদায় ইতিমধ্যে এমন অস্থির নেতাদের কাছ থেকে ক্লান্ত। তিনি জেলেনস্কিকে ‘বিভ্রান্ত’ ও ‘অযৌক্তিক’ বলে বর্ণনা করে, তার নীতি ও কর্মকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই মন্তব্য ইরানের আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার অবস্থান দৃঢ় করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে।
আরাগচি স্বীকার করেছেন, জেলেনস্কি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্মেলনে ইরানের সরকারের সমালোচনা করেন। সেই সময়ে জেলেনস্কি ইরানের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন, যদি ইরান রক্তপাতের পরও ক্ষমতায় থাকে তবে তা অন্য দমনকারী শাসনকে কী বার্তা দেবে। আরাগচি এই মন্তব্যকে ইরানের প্রতি ‘হুমকি’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে, ইরানের স্বার্থ রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন দাবি করেছেন।
এই সমালোচনা ইরান ও ইউক্রেনের কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোও ইরানের এই মন্তব্যকে নজরে রাখবে, বিশেষ করে যখন ইরান-ইউক্রেন সংঘাতের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে আন্তর্জাতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতে উভয় দেশের কূটনৈতিক সংলাপের ধারা কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে থাকবে।
সারসংক্ষেপে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেলেনস্কির নীতি ও ব্যক্তিত্বকে কঠোরভাবে সমালোচনা করে, তার আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে, এবং ইরানের স্বনির্ভরতা ও নিরাপত্তা নীতির পক্ষে যুক্তি প্রদান করেছেন। এই মন্তব্য ইরান-ইউক্রেন সম্পর্কের বর্তমান জটিলতা ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ প্রভাবকে উন্মোচিত করে।



