স্রীপুর উপজেলা, গাজীপুরে আজ সকাল ৮টায় অটো-রিকশা চালকদের একটি বৃহৎ দল ঢাকা‑ময়মনসিংহ সড়কের দু’পাশের লেন বন্ধ করে দেয়। ৩০০েরও বেশি চালক একত্রিত হয়ে গাড়ি চলাচল থামিয়ে রাখে এবং উচ্চস্বরে দাবি করে যে তারা সড়কে চলার অনুমতি ও পুলিশি জবরদস্তি বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন। এই প্রতিবাদটি কটন রিসার্চ সেন্টার এলাকার স্রীপুর থানা অধীনে শুরু হয় এবং প্রায় দুই ঘন্টা ত্রিশ মিনিট স্থায়ী থাকে।
ব্লকেডের মূল কারণ হিসেবে চালকরা উল্লেখ করে যে তারা দীর্ঘদিন ধরে সড়কে চলার অনুমতি না পেয়ে অতিরিক্ত জরিমানা ও হস্তক্ষেপের শিকার হচ্ছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, যদি সরকারিকভাবে অনুমোদন না দেয় তবে তারা সড়কে কাজ চালিয়ে যাবে না। এই পরিস্থিতিতে সড়ক দু’পাশে গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়, যা দৈনন্দিন যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের ওপর বড় ধাক্কা দেয়।
স্রীপুর থানার পুলিশ অফিসার মো. কামরুজ্জামান জানান, প্রায় ১০:৩০ টার দিকে উভয় দিকের আলোচনার পর গাড়ি চলাচল ধীরে ধীরে পুনরায় শুরু হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এবং ট্রাফিক জ্যাম কমাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। আলোচনার সময় চালকদের কিছু মূল দাবি শোনা যায়, তবে তাৎক্ষণিক সমাধান না পেয়ে তারা তৎকালীন সময়ে সড়ক থেকে সরে যায়।
ব্লকেডের সময় দীর্ঘ দূরত্বের বাস, স্থানীয় বাস এবং সিএনজি চালিত গাড়িগুলো সম্পূর্ণভাবে থেমে যায়। সড়কের দু’পাশে গাড়ি গুলির লাইন দীর্ঘ হয়ে যায় এবং যাত্রীদের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। বিশেষ করে গার্মেন্টস কর্মীরা, যারা সময়মতো কাজের স্থানে পৌঁছাতে চায়, তারা এই বন্ধের ফলে বড় অসুবিধার মুখোমুখি হয়।
একজন যাত্রী আলম মিয়া, যিনি ঢাকা যাওয়ার পথে ছিলেন, তাকে মওনা চৌরাস্তার কাছে বাস থেকে নামতে বাধ্য করা হয়। তিনি গর্গোরিয়া মাস্টার বাড়ি এলাকার কাছাকাছি পর্যন্ত হেঁটে যেতে বাধ্য হন এবং বলেন, “দ্রুত কাজের জন্য ঢাকা পৌঁছাতে হবে, তবে এই বাধা আমাকে বিশাল কষ্টে ফেলেছে”। তার কথায় দেখা যায় যে, অল্প সময়ের জন্যই যাত্রীর দৈনন্দিন কাজকর্মে বড় ব্যাঘাত ঘটেছে।
পরিবেশ কর্মী খোরশেদ আলম, যিনি একই সময়ে সড়কে আটকে ছিলেন, জানান যে গার্মেন্টস কর্মীসহ অনেক যাত্রী এই বন্ধের ফলে তীব্র সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময়ের জন্য সড়ক বন্ধ থাকলে শ্রমিকদের সময়মতো কাজের স্থানে পৌঁছানো কঠিন হয়ে যায়, যা উৎপাদনশীলতায় প্রভাব ফেলে। তার মন্তব্যে দেখা যায় যে, এই ধরনের প্রতিবাদ কেবল চালকদের নয়, সাধারণ জনগণের ওপরও প্রভাব ফেলে।
প্রতিবাদ শেষ হওয়ার পর, পুলিশ ও প্রশাসন উভয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা হয় এবং ট্রাফিক পুনরায় চালু হয়। মো. কামরুজ্জামান জানান, সড়ক পুনরায় খোলার পর গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং যাত্রীদের জন্য স্বল্প সময়ের মধ্যে স্বস্তি আসে। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতিবাদ এড়াতে সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও স্পষ্ট নীতি প্রয়োজন।
বাংলাদেশের ট্রাফিক আইন অনুযায়ী, কোনো জনসাধারণের সড়ক অবৈধভাবে বন্ধ করা অপরাধের আওতায় পড়ে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সুতরাং, সড়ক ব্যবহারের অনুমতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ অনুমোদন প্রক্রিয়া মেনে চলা জরুরি।
অধিকন্তু, স্থানীয় প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগকে চালকদের দাবি যথাযথভাবে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধান বের করার আহ্বান জানানো হয়েছে। যদি চালকদের সমস্যার সমাধান না হয়, তবে ভবিষ্যতে একই রকম প্রতিবাদ পুনরাবৃত্তি হতে পারে, যা সড়ক নিরাপত্তা ও জনপরিবহনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট নীতি ও অনুমোদন প্রক্রিয়া প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



