বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান চট্টগ্রামে যুবকদের সঙ্গে মতবিনিময় সেশনের পরই নির্বাচনী সমাবেশে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রবিবার সকাল দশটায় চট্টগ্রাম নগর রেডিসন ব্লু হোটেলে “দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান” শিরোনামে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এই সভায় চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের অর্ধশত কলেজ‑বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৪৫০ের কাছাকাছি শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তরুণদের সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ নীতি নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি তিনি নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের রূপরেখা তুলে ধরেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সিলেটের একটি সমাবেশে একই রকমের যুবমঞ্চে অংশগ্রহণ করেন। সিলেটের যুবকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করার সংকেত দেন।
চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিকেল একটায় (১১:৩০) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জনসমাবেশে তারেক রহমানের উপস্থিতি নিশ্চিত। সমাবেশের পর বিকেল চারটায় (৪:৩০) ফেনি পাইলট স্কুল মাঠে, পাঁচটায় (৫:৩০) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাই স্কুল মাঠে, সন্ধ্যা সাতটায় (৭:০০) সোয়াগাজি ডিগবাজির মাঠে, সাড়ে সাতটায় (৭:৩০) দাউদকান্দি ঈদগাঁ মাঠে এবং রাত একটায় (১১:০০) কাঁচপুর বালুরমাঠে ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনী সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রায় সতেরো বছর লন্ডনে নির্বাসনে কাটিয়ে ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসা তারেক রহমানের প্রথম ভাষণেই তিনি “I have a plan” বলে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। দেশে ফিরে এক মাসের মধ্যে পলোগ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৃহৎ সমাবেশে তিনি অংশ নেবেন, যা তার রাজনৈতিক পুনরাগমনের সূচক হিসেবে বিবেচিত।
বিএনপি নেতৃত্বের এই সিরিজের ইভেন্টগুলোকে পার্টির তরুণ ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। একই সঙ্গে, নির্বাচনী সময়সূচি ঘনিয়ে আসায় বিরোধী দলগুলোও তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করছে।
অধিকাংশ বিশ্লেষক মনে করেন, তরুণদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ পার্টির নীতি ও পরিকল্পনা জনসাধারণের কাছে পৌঁছানোর একটি কার্যকর উপায়। তবে, এ ধরনের ইভেন্টের প্রকৃত প্রভাব নির্বাচনের ফলাফলে কতটা প্রতিফলিত হবে তা এখনও অনিশ্চিত।
তবে, তারেক রহমানের ধারাবাহিক উপস্থিতি এবং বিভিন্ন স্থানে সমাবেশের পরিকল্পনা পার্টির সংগঠনের সক্ষমতা ও তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা উভয়ই নির্দেশ করে। এই সমাবেশগুলোতে উপস্থিতি তার রাজনৈতিক অবস্থানকে পুনরায় সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
বিএনপি কর্মীরা উল্লেখ করেন, যুবকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পার্টির নীতি গঠনে নতুন দৃষ্টিকোণ যুক্ত হবে এবং ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে, নির্বাচনী প্রচারণার সময়সূচি নির্ধারিত হওয়ায় পার্টির কাঠামোগত প্রস্তুতি ত্বরান্বিত হয়েছে।
অবশেষে, তারেক রহমানের এই সিরিজের ইভেন্টগুলোকে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিবিধি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি যে পরিকল্পনা নিয়ে আসছেন, তা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং ভোটারদের প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা পরবর্তী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে।
এইসব ইভেন্টের মাধ্যমে তিনি দেশের বিভিন্ন অংশে উপস্থিতি বাড়িয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করছেন। নির্বাচনের আগে এই ধরনের সরাসরি যোগাযোগ পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা প্রদান করতে পারে।
বিএনপি’র এই উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে, সরকারী ও বিরোধী দল উভয়ই রাজনৈতিক মঞ্চে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে। আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সমাবেশগুলোতে উপস্থিতি ও বক্তৃতা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।



