চট্টগ্রামে রবিবার সকালে অনুষ্ঠিত ‘পলিসি টক’ সেশনে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান তরুণ অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বললেন। তিনি দোষারোপের রাজনীতি থেকে সরে এসে বাস্তব পরিকল্পনা ভিত্তিক দেশ গঠনের জন্য যুবকদের মতামত চেয়েছেন।
প্রোগ্রামের সূচনায় তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে পারস্পরিক দোষারোপের সংস্কৃতি দেশকে অগ্রগতি থেকে বাধা দিচ্ছে। তাই তিনি বললেন, ভবিষ্যৎ নীতি গঠন ও বাস্তবায়নে তরুণদের অন্তর্ভুক্তি অপরিহার্য।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীরা আর্থিক সমস্যার মুখোমুখি হয়, এ বিষয়টি তুলে ধরে তিনি ছাত্রঋণ প্রকল্পের কথা জানান। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আর্থিক সহায়তা পেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ঋণ স্কিম চালু করা হবে।
বন্যা ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় তিনি দেশের ব্যাপক খাল খননের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। ক্ষমতায় আসলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের মাধ্যমে জলবদ্ধতা কমবে এবং ভূগর্ভস্থ পানির মজুত বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের পার্থক্য নিয়ে তিনি জোর দেন, শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজনৈতিক সমর্থন অর্জন করা সম্ভব নয়। জনগণ প্রকৃত ফলাফল দেখলে দলকে সমর্থন করবে, না হলে সমর্থন হারাবে।
আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে কোনো নীতি সফল হবে না, তা তিনি উল্লেখ করেন। ‘চাঁদাবাজি’ সমস্যার ব্যাপকতা স্বীকার করে তিনি বললেন, সরকার যদি দুর্নীতির প্রতি শূন্য সহনশীলতা বজায় রাখে, তবে অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
বিএনপি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চায়। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরে বিশ্বব্যাপী কোন ভোকেশনাল দক্ষতা বেশি চাহিদা পাবে তা গবেষণা করে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রশিক্ষণ শেষে ভাষা শিক্ষা সহ দক্ষ কর্মীকে বিদেশে কাজের জন্য পাঠিয়ে রপ্তানি শ্রমশক্তি তৈরি করা হবে।
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে তিনি জেলাভিত্তিক হাসপাতাল নির্মাণের পরিবর্তে টেকসই মডেল প্রস্তাব করেন। দীর্ঘমেয়াদে পাঁচ‑সাত বছর লাগবে এমন প্রকল্পের বদলে, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করে প্রতিটি গৃহে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং ঘরোয়া সেবা নিশ্চিত করা হবে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে তিনি আধুনিক অডিও‑ভিজ্যুয়াল সরঞ্জাম ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সেরা শিক্ষককে ক্লাসরুমে আনতে চান। একই সঙ্গে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য আধুনিক ডিভাইস সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
আওয়ামী লীগ ও সরকারী পক্ষ থেকে এখনো এই প্রস্তাবগুলোর ওপর কোনো সরকারি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, নির্বাচনী সময়ে এমন নীতি ঘোষণাকে রাজনৈতিক প্রচার হিসেবে দেখা যেতে পারে। সরকারী সূত্রগুলো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে এসবের বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
বিএনপি নেতৃত্বের মতে, এইসব নীতি বাস্তবায়নের জন্য আইনগত কাঠামো ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি শেষ করে বললেন, তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা সফল হবে না এবং সরকারকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তৎপর হতে হবে।



