28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাবাংলাদেশের টি২০ বিশ্বকাপ থেকে প্রত্যাহার ক্রীড়া জগতে দুঃখজনক মুহূর্ত

বাংলাদেশের টি২০ বিশ্বকাপ থেকে প্রত্যাহার ক্রীড়া জগতে দুঃখজনক মুহূর্ত

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দল আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি২০ বিশ্বকাপ থেকে প্রত্যাহার করেছে, ফলে স্কটল্যান্ডকে ২০ দলের শো‑পিসে নতুন অংশগ্রহণকারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শীর্ষ পর্যায়ের টুর্নামেন্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটিং জাতির অনুপস্থিতি ঘটিয়েছে।

প্রত্যাহারের মূল কারণ হল ভারত সফরের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ, যা দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি পরবর্তী সময়ে তীব্রতর হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে ভারত সফর প্রত্যাখ্যানের পর, টুর্নামেন্টের সহ‑আয়োজক শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ স্থানান্তরের অনুরোধ করা হয়।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) এই অনুরোধটি প্রত্যাখ্যান করে, কারণ টুর্নামেন্টের সূচনা তারিখ ৭ ফেব্রুয়ারি নিকটবর্তী এবং শিডিউল পরিবর্তন করা বাস্তবসম্মত নয় বলে বিবেচনা করা হয়। ফলে বাংলাদেশ দল টি২০ বিশ্বকাপের তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং স্কটল্যান্ডকে বদলি করা হয়।

বিশ্ব ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (WCA) এর প্রধান নির্বাহী টম মফফাট এই ঘটনার প্রতি গভীর দুঃখ প্রকাশ করে। তিনি উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশের টি২০ বিশ্বকাপ থেকে প্রত্যাহার এবং একটি মূল্যবান ক্রিকেটিং জাতির অনুপস্থিতি আমাদের খেলাধুলার জন্য দুঃখজনক মুহূর্ত, যা গভীরভাবে চিন্তা করার প্রয়োজন সৃষ্টি করে।” তিনি সকল স্টেকহোল্ডারকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান।

মফফাটের বক্তব্যে তিনি আরও যোগ করেন, “বিভাজন বা বর্জনকে সুযোগ না দিয়ে, গেমের নেতাদেরকে গভার্নিং বডি, লিগ এবং খেলোয়াড়সহ সব অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্রীড়া একত্রিত করার দায়িত্ব নিতে হবে।” এই আহ্বানটি দক্ষিণ এশীয় ক্রিকেটের বর্তমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব পায়।

দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটে চলমান উত্তেজনা ভারত‑পাকিস্তান সম্পর্কের জটিলতা থেকে উদ্ভূত। রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে ICC পাকিস্তানের জন্য একটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচের ব্যবস্থা করেছে, যাতে উভয় দেশের দলই নিরাপদে খেলতে পারে।

পাকিস্তান দলকে শ্রীলঙ্কায় সমস্ত ম্যাচ খেলতে হবে, যদিও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) এর প্রধান মোহসিন নাকভি এখনও অংশগ্রহণের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ দেননি। তিনি জানিয়েছেন, “প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে পাকিস্তানে নেই। তিনি ফিরে এলে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারব।” নাকভি একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও আছেন।

মোহসিন নাকভির এই মন্তব্যের ভিত্তিতে পাকিস্তানের টি২০ বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে, তবে ICC ইতিমধ্যে শ্রীলঙ্কাকে সব ম্যাচের হোস্ট হিসেবে নির্ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক চ্যালেঞ্জকে আবারো উন্মোচিত করেছে।

বিশ্বকাপের সূচনা ৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত, এবং শ্রীলঙ্কা ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে। যদিও বাংলাদেশ দল অংশ নিতে পারছে না, তবে টুর্নামেন্টের সময়সূচি ও ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা এখনো নেই।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে WCA এবং ICC উভয়ই ক্রীড়া সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়েছে। তারা আশা করে যে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষই নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিষয়গুলোকে সম্মিলিতভাবে সমাধান করবে।

বাংলাদেশের অনুপস্থিতি ক্রীড়া প্রেমিকদের জন্য এক বড় ক্ষতি, তবে একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সংলাপ ও সহযোগিতার গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে। সকল স্টেকহোল্ডারকে একত্রে কাজ করে ক্রীড়া ক্ষেত্রকে ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান এখনই বাস্তবায়ন করা উচিত।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments