চট্টগ্রামের পোলো গ্রাউন্ডে আজ সকাল ৭টা থেকে বিএনপি নেতা ও কর্মীরা ছোট ছোট দলে জমা হতে শুরু করে, যেখানে পার্টির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের সমর্থকদের সমাবেশের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ১১:৩০ টায় তারেক রহমানকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া র্যালি, তার দীর্ঘ বিরতির পর শহরের রাজনৈতিক মঞ্চে ফিরে আসার চিহ্ন বহন করে।
সকালবেলা থেকে ক্যাপ, রঙিন টি-শার্ট পরা কর্মীরা পার্টির পতাকা, ব্যানার ও স্লোগান নিয়ে মাঠে প্রবেশ করে। ভিড়ের মধ্যে বিভিন্ন ইউনিটের নেতা ও কর্মীরা ছোট ছোট শোভাযাত্রা নিয়ে আসেন, যেখানে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে ঘোষণার শব্দ গুঞ্জরায়। সমাবেশের সময় পার্টির পতাকা উড়ছে, ব্যানারগুলো দৃশ্যমান, এবং ক্রমাগত নতুন দলিলের প্রবাহ ঘটছে।
বিএনপি নেতারা উল্লেখ করেন, এই সমাবেশটি দেশের সর্বত্র চলমান নির্বাচনী প্রচারণার অংশ এবং চট্টগ্রামের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তারা জানান, তারেক রহমানের ভাষণে বিএনপি’র চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, উন্নয়ন, শাসন ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হবে।
চট্টগ্রাম শহরের কর্মী আওলাদ হোসেন বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে বিএনপি স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে পারেনি। আজ আমাদের জন্য আনন্দের দিন। আমাদের নেতা তাঁর ভাষণের মাধ্যমে আমাদের পথ দেখাবেন।” যুবদলের নেতা গিয়াস উদ্দিন যোগ করেন, “যদি ভোটের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করে, তবে আমাদের নেতা তারেক জিয়া চট্টগ্রামে কী ধরনের উন্নয়ন হবে তা ব্যাখ্যা করবেন। তাঁর আগমন আমাদের মধ্যে অতিরিক্ত উত্তেজনা ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।”
তারেক রহমান গত রাতেই ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে বিমান দ্বারা পৌঁছেছেন। তিনি ২০ বছর পর পোলো গ্রাউন্ডে জনসমক্ষে ভাষণ দিচ্ছেন; শেষবারের মতো তিনি এই বন্দর শহরে ৬ মে ২০০৫-এ সফর করেন, তখন তিনি পার্টির সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল পদে ছিলেন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য বিএনপি মেয়র প্রার্থীর সমর্থনে একটি সভায় অংশ নেন।
পোলো গ্রাউন্ডে সমাবেশের পর তারেক রহমানের ফেনী জেলার ভ্রমণ নির্ধারিত হয়েছে, যা পার্টির নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সমাবেশে উপস্থিত বিভিন্ন ইউনিটের নেতা ও কর্মীরা ভবিষ্যৎ নির্বাচনে ভোটারদের সমর্থন অর্জনের জন্য পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি শেয়ার করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বিএনপি’র এই সমাবেশ চট্টগ্রামের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিশীলতা আনবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, তবে পার্টি নিজেই বলেছে, সমাবেশের মূল লক্ষ্য হল জনগণের কাছে তাদের উন্নয়নমূলক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করা এবং আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের আস্থা অর্জন করা।



