অনেক মানুষ সকালে ঘুমের অল্প ঘন্টা, কফি, পানির অভাব এবং নুডলসের মতো দ্রুত খাবার গ্রহণের সঙ্গে দিন শুরু করে। এই রুটিনের ফলে কিডনি স্বাস্থ্যের ওপর ধীরে ধীরে চাপ বাড়ে, যদিও কোনো তীব্র ব্যথা বা অস্বাভাবিকতা দেখা না দেয়।
কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ফিল্টার করে, দেহের তরল ও ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই কাজগুলো নিঃশব্দে চলে, তাই কোনো স্পষ্ট সতর্কতা না পেলে মানুষ প্রায়শই সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারে না।
প্রাথমিক পর্যায়ে প্রকাশিত লক্ষণগুলো সাধারণত হালকা এবং দৈনন্দিন ক্লান্তি, চোখের চারপাশে বা গোড়ালিতে সামান্য ফোলা, মূত্রে হালকা ফেনা, ঘন ঘন বা ব্যথাযুক্ত প্রস্রাব, অজানা ক্লান্তি, পিঠের নিচের অংশে হালকা ব্যথা এবং মাঝে মাঝে মাথাব্যথা হিসেবে প্রকাশ পায়। এসব উপসর্গকে স্ট্রেস, রাতের দেরি বা অতিরিক্ত ক্যাফেইনের ফলাফল বলে অবহেলা করা হয়।
দৈনন্দিন জীবনে পানির পর্যাপ্ত গ্রহণ না করা, অতিরিক্ত লবণ ও চিনি সমৃদ্ধ খাবার, প্রক্রিয়াজাত ও ফাস্ট ফুড, এনার্জি ড্রিংক, এবং প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেনের অতিরিক্ত ব্যবহার কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা শারীরিক অনুশীলনের অভাবও এই সমস্যাকে ত্বরান্বিত করে।
উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা এবং ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগগুলো কিডনি ক্ষয়কে গোপনে ত্বরান্বিত করে। এই রোগগুলো রক্তে গ্লুকোজ ও লবণের মাত্রা বাড়িয়ে কিডনির ফিল্টারিং ক্ষমতা হ্রাস করে, ফলে ক্রনিক কিডনি রোগ (CKD) বিকাশের ঝুঁকি বাড়ে।
CKD ধীরে ধীরে অগ্রসর হয় এবং প্রায়শই রোগীর স্বাস্থ্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। কিডনি যথাযথভাবে কাজ না করলে রক্তচাপ বাড়ে, হৃদয় ও রক্তনালীর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত ডায়ালিসিসের প্রয়োজন হতে পারে, যা আজকের সময়ে একটি সাধারণ স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ।
কিডনি সমস্যার প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্তকরণ ও প্রতিরোধের জন্য নিয়মিত রক্ত ও মূত্র পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। রক্তের ক্রিয়েটিনিন ও গ্লোমেরুলার ফিল্ট্রেশন রেট (GFR) পর্যবেক্ষণ করলে কিডনি কার্যকারিতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।
দৈনন্দিন জীবনে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা, লবণ ও চিনি কমানো, তাজা সবজি ও ফলের সঙ্গে সুষম খাবার গ্রহণ করা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য মৌলিক পদক্ষেপ। অতিরিক্ত ক্যাফেইন ও এনার্জি ড্রিংক সীমিত করা এবং প্রয়োজনের বাইরে ওভার-দ্য-কাউন্টার ব্যথা নিবারক ওষুধের ব্যবহার এড়ানো উচিত।
শারীরিক কার্যকলাপ বাড়ানো, নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করা রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং কিডনির ফিল্টারিং ক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। ওজন নিয়ন্ত্রণ ও রক্তচাপের নিয়মিত পর্যবেক্ষণও কিডনি ক্ষয় রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
যদি মূত্রে ফেনা, ঘন ঘন প্রস্রাব বা অস্বাভাবিক ব্যথা দেখা দেয়, অথবা চোখের চারপাশে ফোলা, পিঠে ব্যথা ও অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। প্রাথমিক হস্তক্ষেপ রোগের অগ্রগতি ধীর করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা রোধে সহায়তা করে।
সারসংক্ষেপে, কিডনি স্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলা না করে দৈনন্দিন পানীয় ও খাবারের নির্বাচন, পর্যাপ্ত হাইড্রেশন, নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ এবং সময়মতো মেডিক্যাল চেক-আপের মাধ্যমে সমস্যার সূচনা থেকেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। আপনার কিডনি কীভাবে কাজ করছে তা জানার জন্য আজই একবার রক্ত ও মূত্র পরীক্ষা করার কথা ভাবুন।



