স্যান্ডান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে গত সপ্তাহে ‘উইকার’ শিরোনামের নতুন চলচ্চিত্রটি প্রিমিয়ার হয়েছে। চলচ্চিত্রটি এলিনর উইলসন ও অ্যালেক্স হাস্টন ফিশারের যৌথ পরিচালনায় তৈরি এবং এতে অলিভিয়া কলম্যান, আলেকজান্ডার স্কার্সগার্ড ও এলিজাবেথ ডেবিকি প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। মোট চলমান সময় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট, এবং এটি উরসুলা উইলস-জোন্সের ‘দ্য উইকার হাব্যান্ড’ নামের ছোট গল্পের উপর ভিত্তি করে রচিত। গল্পটি কাল্পনিক গ্রাম্য পরিবেশে গড়ে উঠেছে, যেখানে ১৬০০-এর দশকের ইংল্যান্ডের ছাপ রয়েছে, তবে সময় ও স্থান নির্দিষ্ট করা হয়নি।
গ্রামটি নিজস্ব রীতিনীতি ও সামাজিক নিয়মে পরিপূর্ণ, যার মধ্যে এক অদ্ভুত বিবাহের রীতি রয়েছে যেখানে কনে তার গলায় ধাতব কলার পরায়। এই অনন্য রীতি চলচ্চিত্রের কাহিনীর মূলে দাঁড়িয়ে আছে এবং চরিত্রগুলোর সম্পর্কের জটিলতা প্রকাশে সহায়তা করে।
অলিভিয়া কলম্যানের চরিত্রটি একা মৎস্যজীবী নারী, যার মুখে মাটির দাগ ও পোশাকের ওপর ধুলো জমে আছে, যা তাকে গ্রামটির কঠোর জীবনের সঙ্গে যুক্ত করে। তার একাকিত্বের মধ্যে লুকিয়ে আছে স্বপ্নের সন্ধান, যা তাকে অপ্রত্যাশিতভাবে অ্যালেক্স স্কার্সগার্ডের চরিত্রের সঙ্গে যুক্ত করে। স্কার্সগার্ডের চরিত্রটি এক আদর্শ স্বামী হিসেবে উপস্থাপিত, যার উপস্থিতি গ্রামবাসীদের পুরোনো রীতির সঙ্গে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি মিশ্রিত করে।
এলিজাবেথ ডেবিকি চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকায় উপস্থিত, যদিও তার চরিত্রের বিশদ প্রকাশ না করলেও তার উপস্থিতি গল্পের গতি বাড়ায়। তিনজন প্রধান অভিনেতার পারস্পরিক ক্রিয়া চলচ্চিত্রের মূল আকর্ষণ গড়ে তুলেছে।
‘উইকার’ মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি, যেখানে বিবাহ, আকাঙ্ক্ষা ও জীবনের অস্থিরতা নিয়ে গভীর আলোচনা করা হয়েছে। দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট হতাশা ও আত্মবিশ্বাসের অভাবকে সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা দর্শকের সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সংযোগ স্থাপন করে।
চিত্রনাট্যটি হালকা-ফুলকা রসিকতা ও তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গের মিশ্রণ, যা গল্পকে অতিরিক্ত মিষ্টি না হয়ে তীক্ষ্ণ স্বাদ দেয়। চলচ্চিত্রে যৌনতা, দেহের অংশ ও বিভিন্ন ফেটিশের উল্লেখ রয়েছে, যা এটিকে স্পষ্টভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত করে। তবে এই উপাদানগুলো অতিরিক্ত না হয়ে কাহিনীর স্বাভাবিক প্রবাহে মিশে আছে।
ফেস্টিভ্যালের আধুনিক ও পরীক্ষামূলক পরিবেশের মধ্যে ‘উইকার’ একটি পুরনো ধাঁচের, তবে তাজা বায়ু নিয়ে এসেছে। চলচ্চিত্রের শৈলী ও বর্ণনা পদ্ধতি আধুনিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুরনো গল্পের আকর্ষণ বজায় রেখেছে, যা দর্শকদের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
উৎপাদন দল উরসুলা উইলস-জোন্সের ছোট গল্পকে চলচ্চিত্রের রূপে রূপান্তর করতে বেশ কিছু সৃজনশীল পরিবর্তন এনেছে, তবে মূল থিম ও চরিত্রের মূলভাব অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। গল্পের কাঠামো ও চরিত্রের বিকাশে নতুন মোড় যোগ করে চলচ্চিত্রটি স্বতন্ত্র পরিচয় পেয়েছে।
‘উইকার’ এর ভিজ্যুয়াল স্টাইল গ্রাম্য পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে প্রাকৃতিক আলো ও মাটির রঙের ব্যবহার দৃশ্যকে বাস্তবিক করে তুলেছে। সাউন্ডট্র্যাকটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ সুরের মাধ্যমে গল্পের মেজাজকে সমর্থন করে, যা দর্শকের অনুভূতিকে তীব্র করে।
সামগ্রিকভাবে, চলচ্চিত্রটি হালকা-ফুলকা রসিকতা, তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ ও মানবিক সহানুভূতির সমন্বয়ে গঠিত। এটি প্রাপ্তবয়স্কদের জীবনের জটিলতা ও স্বপ্নের অনুসন্ধানকে মধুরভাবে উপস্থাপন করে, যা দর্শকদের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলবে।
‘উইকার’ স্যান্ডান্সে প্রিমিয়ার হওয়ার পর থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে এবং এটি এমন দর্শকদের জন্য সুপারিশ করা যায়, যারা পুরনো গল্পের মোহনীয়তা ও আধুনিক চলচ্চিত্রের সূক্ষ্মতা একসাথে উপভোগ করতে চান।



