ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে যে ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যে প্রায় ১.৬ মিলিয়ন মানুষ ওজন কমানোর ইনজেকশন ব্যবহার করেছে। এই ওষুধগুলো GLP-1 হরমোনের কার্যকলাপ অনুকরণ করে ক্ষুধা কমায়, ফলে ব্যবহারকারীরা স্বাভাবিকের চেয়ে কম খাবার গ্রহণ করে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে লক্ষ লক্ষ মানুষ এই ধরনের ইনজেকশন চেষ্টা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
বেসরকারি ভাবে এই ইনজেকশন গ্রহণের খরচ মাসে £৩০০‑এর বেশি হতে পারে, যা অনেকের জন্য উল্লেখযোগ্য ব্যয়। তবে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে এই পণ্যের চাহিদা তীব্রতর হচ্ছে, ফলে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন ধরনের গ্রাহকের চাহিদা মেটাতে পদক্ষেপ নিচ্ছে।
ইনজেকশন গ্রহণের ফলে ক্ষুধা হ্রাস পায়, ফলে ব্যবহারকারীরা স্বাভাবিকের তুলনায় কম খাবার খায়। এই পরিবর্তন শুধু ওজন হ্রাসেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দৈনন্দিন খাবারের ক্রয় প্যাটার্নেও প্রভাব ফেলছে।
শ্রোডশায়ার থেকে ৩৮ বছর বয়সী সাম গিলসন, যিনি জুন মাস থেকে এই ইনজেকশন ব্যবহার করে চার স্টোনের বেশি ওজন কমিয়েছেন, তিনি জানান যে তার সাপ্তাহিক মুদি কেনাকাটা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এখন তিনি তাজা সবজি ও ফলের দিকে বেশি ঝুঁকছেন, আর পিজ্জা, চিপস ও নুগেটের মতো প্রস্তুত খাবার কম কিনছেন।
মুদিখানা কেনার পরিমাণ কমে যাওয়ায় গিলসন মত ব্যবহারকারীরা পুষ্টিকর খাবারের গুণগত মান নিশ্চিত করতে চাচ্ছেন। তিনি বলেন, ছোট পরিমাণে খাবার হলেও তা প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ হওয়া দরকার। এই চাহিদা পূরণে সুপারমার্কেটগুলো নতুন পণ্য লাইন চালু করেছে।
কো-অপ, মরিসনস এবং মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার সম্প্রতি পুষ্টিকর উপাদানে সমৃদ্ধ রেডি-মিলের সিরিজ প্রকাশ করেছে। এই পণ্যগুলো কম ক্যালোরি ও উচ্চ প্রোটিন সমন্বিত, যা ক্ষুধা কমে যাওয়া গ্রাহকদের জন্য উপযোগী। একই সময়ে ওকাডো ১০০ গ্রাম ওজনের স্টেক বিক্রি শুরু করেছে, যা ছোট পরিমাণে প্রোটিন সরবরাহের জন্য বাজারের চাহিদা পূরণ করে।
নতুন পণ্যের পাশাপাশি শেলফে প্রোটিন সমৃদ্ধ স্মুদি ও স্ন্যাক্সের উপস্থিতি বাড়ছে। এই ধরনের পণ্যগুলো দ্রুত পুষ্টি সরবরাহের জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, বিশেষত যারা খাবারের পরিমাণ কমিয়ে পুষ্টি বজায় রাখতে চান।
মিন্টেল গ্রুপের ফুড অ্যান্ড ড্রিঙ্ক স্ট্র্যাটেজিস্ট জোনি ফর্সিথ উল্লেখ করেন যে এই প্রবণতা স্বাস্থ্য সচেতনতার বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। তিনি বলেন, GLP-1 ভিত্তিক ওষুধগুলো খাবারের সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনছে, ফলে পুষ্টিকর খাবারকে ফ্যাশনেবল করে তুলছে এবং বিদ্যমান ট্রেন্ডকে ত্বরান্বিত করছে।
ক্যাম ইনসাইটের একটি সমীক্ষা দেখায় যে GLP-1 ওষুধ ব্যবহারকারী প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ রেস্টুরেন্টে খাবার ও পানীয়ের খরচ কমিয়ে দিচ্ছেন। এই ফলাফল ইঙ্গিত করে যে ওজন কমানোর ইনজেকশন শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যই নয়, ভোক্তা ব্যয়ের ধরণেও প্রভাব ফেলছে।
সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, ওজন কমানোর ইনজেকশন ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ঘটছে, যা রিটেইল ও ফুড ইন্ডাস্ট্রিকে নতুন পণ্য ও সেবা বিকাশে উদ্বুদ্ধ করছে। ভবিষ্যতে এই প্রবণতা কীভাবে বিকশিত হবে এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে গ্রাহকের চাহিদা মেটাতে পারবে, তা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার দৈনন্দিন খাবারের পছন্দে যদি কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করেন, তবে পুষ্টি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করে সঠিক পুষ্টি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করুন।



