মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশিষ্ট সাংবাদিক ২০০২ সালের জানুয়ারি মাসে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা স্কুলে মূল বক্তৃতা দিলেন। বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয় নিউ ইয়র্কের ক্যাম্পাসে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক শিক্ষার্থী ও গবেষকগণ। মূল বিষয় ছিল ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর শহরের অবস্থা এবং সেই ঘটনার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ভূমিকা।
বক্তা উল্লেখ করেন যে, দু’বছর আগে দু’টি বিমান বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের টাওয়ারকে আঘাত করে, যার ফলে শহরের মানুষজনের মুখে শোকের ছাপ স্পষ্ট ছিল। নিউ ইয়র্কের বাসিন্দাদের মুখে দেখা গিয়েছিল ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ের প্রতিফলন, যা তিনি সরাসরি অনুভব করেছিলেন।
তিনি নিজের জন্মের কথা তুলে ধরেন, বলেন তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পনেরো বছর পর জন্মগ্রহণ করেন, যখন বিশ্বকে পুনর্গঠন করার দায়িত্ব মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, পশ্চিম ইউরোপের শান্তি, নিরাপত্তা এবং ধীরে ধীরে বাড়তে থাকা সমৃদ্ধি মূলত আমেরিকার নীতির ফল।
বক্তা আরও বলেন, পশ্চিমে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সোভিয়েত শক্তির পশ্চিমমুখী বিস্তারকে থামিয়ে দেয়। এই জয়কে তিনি শীতল যুদ্ধের শেষের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে উল্লেখ করেন।
তারপর তিনি মার্শাল পরিকল্পনার প্রভাব বর্ণনা করেন, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় দেশগুলোকে পুনর্নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে, ফলে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত হয় এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় গড়ে ওঠে। এই পরিকল্পনা ইউরোপের পুনরুদ্ধারকে ত্বরান্বিত করেছে, যা আজও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়।
বক্তা ১৯৮৯ সালে প্রাগের ভেনেস্লাস স্কোয়ারে উপস্থিত থাকার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি তখন চেক ও স্লোভাক জনগণকে সোভিয়েত দখল ও কমিউনিস্ট শাসন থেকে মুক্তি পেতে চাওয়া দৃশ্য দেখেছিলেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে তিনি পশ্চিমের সম্প্রদায়ের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন।
বক্তৃতার মাঝামাঝি সময়ে, হলের সামনে একটি প্রায় বিশ বছর বয়সী যুবক চোখে অশ্রু নিয়ে বসে ছিলেন। বক্তা তার দিকে তাকিয়ে দেখলেন যুবক নীরবে কান্না দমন করার চেষ্টা করছেন। এই দৃশ্যটি বক্তার মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল।
বক্তৃতার পরের রিসেপশনে যুবক তার কাছে এগিয়ে এসে ক্ষমা চেয়ে বলেন, “আপনার কথা শোনার পর আমরা এখনো কাঁচা ও দুর্বল বোধ করছি। আমাদের মতো বিদেশি বন্ধুদের থেকে এই ধরনের বার্তা শোনা দরকার।” এই কথায় বক্তা অনুভব করেন, তার প্রজন্ম এবং যুবকের প্রজন্মের ভাগ্য কতটা ভাগ্যবান যে তারা এই সময়ে জীবিত।
শেষে তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ব যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বের শৃঙ্খলায় ফিরে যাওয়ার পথে, তখন মধ্যম ক্ষমতাসম্পন্ন দেশগুলোকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। এই চ্যালেঞ্জের মূল ভিত্তি হল আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, যা তিনি পূর্বে উল্লেখিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগুলোর ওপর নির্ভরশীল।



