প্রতিবছরের ২৬ জানুয়ারি জাতীয় গৌরবের দিন রিপাবলিক ডে-তে গানের মাধ্যমে দেশপ্রেমের সুর বাজানো হয়। এই বছর ভারতের সরকার আনুষ্ঠানিক গানের জন্য এম.এম. কীরবানিকে বেছে নিয়েছে; তিনি ‘ভাঁডে মাতরম’ শিরোনামের রচনা সম্পন্ন করেছেন। গানটি রিপাবলিক ডে পারেডের সময় রাজপথে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে।
সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তি এম.এম. কীরবানি, যিনি তেলুগু ও হিন্দি চলচ্চিত্রের বহু পুরস্কারজয়ী সুরকার, এই দায়িত্ব গ্রহণে উচ্ছ্বসিত ছিলেন। তিনি প্রকাশ্যে জানান, “আমি এই বড় দায়িত্ব নিতে উত্তেজিত ছিলাম এবং শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলাম”। তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে কাজের প্রতি তার গভীর উত্সাহ প্রকাশ পায়।
কীরবানি এই দায়িত্বকে দেশের গর্বকে কাঁধে তুলে নেওয়ার মতো বড় কাজ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি ঐতিহ্যবাহী সুরের সঙ্গে আধুনিক সঙ্গীতের মিশ্রণ ঘটিয়ে একটি সমন্বিত রচনা তৈরি করার লক্ষ্য রাখেন। ফলে গানের সুরে শাস্ত্রীয় রাগের ছোঁয়া এবং সমসাময়িক রিদমের সুনিপুণ সমন্বয় দেখা যায়।
গানটি তৈরির কাজ কয়েক মাস আগে থেকেই শুরু হয়। এতে দেশজুড়ে বিভিন্ন সঙ্গীতশিল্পী ও গায়কদের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। রেকর্ডিং স্টুডিওতে তবলা, শেহনাই, বীণা ইত্যাদি ঐতিহ্যবাহী যন্ত্রের ব্যবহার করা হয়েছে, যা গানের স্বাদকে সমৃদ্ধ করে।
গানের লিরিক্সের জন্য একটি বিশিষ্ট কবি নতুন স্তবক রচনা করেছেন, যা মূল ‘ভাঁডে মাতরম’ কবিতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই নতুন স্তবকগুলো স্বাধীনতার উল্লাস ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা বহন করে, যা শোনার সঙ্গে সঙ্গে শ্রোতাদের হৃদয়ে গাঁথা হয়ে ওঠে।
সুরের কাঠামোতে সিম্ফনি অর্কেস্ট্রার বিশাল ব্যান্ডের সঙ্গে ভারতীয় শাস্ত্রীয় বাদ্যযন্ত্রের সমন্বয় ঘটেছে। এতে পশ্চিমা স্ট্রিংসের মেলোডি এবং ভারতীয় শাস্ত্রীয় সুরের মিশ্রণ গানের গভীরতা বাড়িয়ে তুলেছে।
মন্ত্রণালয়ের সংস্কৃতি বিভাগ গঠন করা একটি বিশেষ কমিটি গানের নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। বহু সুরকারের মধ্যে থেকে কীরবানির রচনা তার আবেগময়তা ও সুরের গুণগত মানের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়।
চূড়ান্ত রেকর্ডিং হায়দ্রাবাদে সম্পন্ন হয়, যেখানে বিভিন্ন রাজ্যের গায়কদের একটি বড় কোরাস অংশগ্রহণ করে। এই কোরাসের মাধ্যমে গানের বার্তা জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে ওঠে।
গানটি রিপাবলিক ডে অনুষ্ঠানের সময় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সঙ্গে সঙ্গে বাজানো হবে, এবং রাজপথে চলমান সেনাবাহিনীর পা ধ্বনির সঙ্গে সুরের সমন্বয় ঘটবে। সরকার আশা করে যে এই সুরটি বছরের পর বছর স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রাক-প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শোনেনরা গানের ঐতিহ্যবাহী সুর ও আধুনিক রিদমের মিশ্রণকে প্রশংসা করছেন এবং পূর্ণ পারফরম্যান্সের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এটি কীরবানির দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় স্তরে সঙ্গীত রচনা করার সুযোগ, পূর্বে তিনি অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য সুর রচনা করেছেন। তার এই অংশগ্রহণ দেশের সঙ্গীত জগতে তার মর্যাদা আরও দৃঢ় করে।
রিপাবলিক ডে উদযাপনের লাইভ সম্প্রচার ও সরকারি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গানটি শোনার জন্য সকল নাগরিককে আহ্বান জানানো হচ্ছে। গানের মাধ্যমে দেশের একতা ও গর্বের অনুভূতি পুনরুজ্জীবিত করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



