গুগল পরিচালিত জিমেইল সেবায় আজ (শনিবার) সকাল প্রায় ৫ টা প্যাসিফিক সময় থেকে ইমেইল ফিল্টারিংয়ে সমস্যার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। ব্যবহারকারীরা ইনবক্সে অপ্রত্যাশিত স্প্যাম এবং ইমেইল শ্রেণীবিন্যাসের ত্রুটি লক্ষ্য করছেন। এই ব্যাঘাতের ফলে ইমেইল ব্যবহারের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
গুগলের অফিসিয়াল স্ট্যাটাস ড্যাশবোর্ডে দেখা যায়, সমস্যাটি ৫ টা পিএসটি সময়ে শুরু হয়েছে এবং এখনও সমাধানের পথে রয়েছে। ড্যাশবোর্ডে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যবহারকারীরা “ইনবক্সে ইমেইল মিসক্লাসিফিকেশন” এবং “অতিরিক্ত স্প্যাম সতর্কতা” সম্মুখীন হচ্ছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা সমস্যার প্রাথমিক সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন।
বেশিরভাগ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তাদের প্রাইমারি ইনবক্সে প্রচারমূলক, সামাজিক বা আপডেট ক্যাটেগরির ইমেইলগুলো স্বাভাবিকভাবে আসা উচিত ছিল, তবে আজ সেগুলো সরাসরি প্রধান ইনবক্সে ভরে গিয়েছে। ফলে ব্যবহারকারীরা গুরুত্বপূর্ণ মেসেজের সাথে অপ্রয়োজনীয় বিজ্ঞাপন মেলাতে বাধ্য হচ্ছেন। একই সঙ্গে, পরিচিত প্রেরকের ইমেইলেও স্প্যাম সতর্কতা প্রদর্শিত হচ্ছে, যা সাধারণ ফিল্টারিং আচরণ থেকে ভিন্ন।
সামাজিক মিডিয়ায় ব্যবহারকারীরা অভিযোগ প্রকাশ করছেন, “সব স্প্যাম সরাসরি ইনবক্সে যাচ্ছে” এবং “গুগলের ফিল্টার হঠাৎই কাজ করা বন্ধ করেছে”। এই মন্তব্যগুলো থেকে স্পষ্ট যে, ব্যবহারকারীরা ফিল্টারিং সিস্টেমের অস্থায়ী ব্যর্থতাকে বড় সমস্যারূপে দেখছেন। কিছু ব্যবহারকারী উল্লেখ করেছেন, পূর্বে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শ্রেণীবদ্ধ হওয়া ইমেইলগুলো এখন ম্যানুয়ালি সনাক্ত করতে হচ্ছে।
গুগল এই পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়ে বলেছে, তারা সক্রিয়ভাবে সমস্যার সমাধানে কাজ করছে। একই সঙ্গে, ব্যবহারকারীদের অজানা প্রেরকের মেসেজের সঙ্গে মোকাবিলা করার সময় সাধারণ নিরাপত্তা নীতি অনুসরণ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। গুগল কর্তৃক প্রকাশিত এই বিবৃতি সমস্যার দ্রুত সমাধানের ইচ্ছা প্রকাশ করে, যদিও নির্দিষ্ট সমাধানের সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।
ইমেইল সেবা আধুনিক কাজের পরিবেশে অপরিহার্য হওয়ায়, জিমেইলের এই ধরনের ব্যাঘাত ব্যবসা ও ব্যক্তিগত যোগাযোগে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক প্রতিষ্ঠান জিমেইলকে অফিসিয়াল যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে, ফলে ফিল্টারিং ত্রুটি গুরুত্বপূর্ণ মেসেজের মিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া, স্প্যাম সতর্কতার অতিরিক্ত প্রদর্শন ব্যবহারকারীর বিভ্রান্তি বাড়িয়ে তুলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, জিমেইলকে বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি ব্যবহারকারী ব্যবহার করেন, তাই সিস্টেমের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। বর্তমান সমস্যাটি গুগলের বৃহৎ অবকাঠামোতে অস্থায়ী গ্লিচের উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে, তবে দ্রুত সমাধান ব্যবহারকারীর আস্থা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যবহারকারীদের জন্য কিছু প্রাথমিক পদক্ষেপ সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথমে, স্প্যাম ফোল্ডার নিয়মিত চেক করে কোনো গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ মিস না হয় তা নিশ্চিত করা উচিত। দ্বিতীয়ত, অজানা প্রেরকের মেসেজে লিঙ্ক বা সংযুক্তি ক্লিক করার আগে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, গুগলের স্ট্যাটাস পেজে আপডেট অনুসরণ করে সমস্যার অগ্রগতি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা উচিত।
গুগল সমস্যার সমাধান শেষে সিস্টেমের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার করলে, ব্যবহারকারীরা আবার স্বাভাবিকভাবে ইমেইল শ্রেণীবিন্যাস ও স্প্যাম ফিল্টারিং উপভোগ করতে পারবেন। এই সময়ে গুগল কীভাবে সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে একই ধরনের ব্যাঘাত রোধ করবে, তা প্রযুক্তি সম্প্রদায়ের নজরে থাকবে।
সারসংক্ষেপে, গুগলের জিমেইল সেবায় আজ সকালে শুরু হওয়া স্প্যাম ও ইমেইল মিসক্লাসিফিকেশন সমস্যাটি ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন যোগাযোগে অস্থায়ী বাধা সৃষ্টি করেছে, তবে গুগল সক্রিয়ভাবে সমাধানের পথে রয়েছে এবং ব্যবহারকারীদের নিরাপদ ইমেইল ব্যবহার নিশ্চিত করতে মৌলিক নিরাপত্তা নির্দেশনা প্রদান করেছে।



