প্রসিদ্ধ গায়িকা-গীতিকার ডলি পার্টন ১৯ জানুয়ারি সোমবার তার ৮০তম জন্মদিন উদযাপন করেন। তিনি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও শেয়ার করে ১৯৭৭ সালের হিট গানের নতুন সংস্করণ প্রকাশ করেন এবং জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে হাস্যরসের ছোঁয়া যোগ করেন।
ভিডিওতে ডলি নিজে ক্যামেরার সামনে হাসি মুখে ঘোষণা করেন, “আমি ৮০ বছর বয়সী, এটা বিশ্বাস করা কঠিন, তবে আমি এখানে আছি”। তিনি বলেন, এই বয়সে উপহার না দিয়ে, অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সেরা উপহার।
গানের নতুন রেকর্ডিংয়ে ডলি বহু আন্তর্জাতিক শিল্পীর সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন। কুইন লাটিফা, রেবা ম্যাকএন্টায়ার, মাইলি সাইরাস, লেইনি উইলসন এবং ডেভিড ফস্টার পিয়ানো বাজিয়ে গানে নতুন রঙ যোগ করেছেন।
প্রযোজনা কাজটি কেন্ট ওয়েলস পরিচালনা করেছেন, যিনি গানের আধুনিক সাউন্ড তৈরি করতে মূল ভূমিকা পালন করেছেন। এই সহযোগিতা ডলির দীর্ঘদিনের সঙ্গীত যাত্রাকে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
মূল গানের শিরোনাম “Light of a Clear Blue Morning” প্রথম প্রকাশ পায় ১৯৭৭ সালের অ্যালবাম “New Harvest… First Gathering”-এ। সেই সময়ে গানের কথা ও সুর ডলির নিজস্ব রচনা, যা তার সঙ্গীত ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
প্রকাশের পর গানটি বিলবোর্ডের হট কান্ট্রি সিঙ্গেলস চার্টে জুন মাসে ১১ নম্বর স্থানে পৌঁছায়। এই সাফল্য ডলির কান্ট্রি সঙ্গীতে প্রতিষ্ঠা দৃঢ় করে এবং তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাড়িয়ে দেয়।
ইনস্টাগ্রাম ক্লিপে ডলি উল্লেখ করেন, নতুন সংস্করণটি বর্তমান সময়ে মানুষকে উত্সাহিত করার জন্য তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “এই গানটি আমাদের মনকে উঁচু করে তুলবে, বিশেষ করে আজকের কঠিন সময়ে”।
বয়স নিয়ে ডলি হালকা মেজাজে মন্তব্য করেন, “আমি আশা করি আর ৮০ বছর বাঁচব, তবে আমার প্লাস্টিক সার্জনদের লাইন এখনও খালি থাকবে”। তিনি হাসি দিয়ে যোগ করেন, “আমি এতগুলো প্লাস্টিক সার্জনকে ছাড়িয়ে গেছি, তাই জন্মদিনে নিজেকে শুভেচ্ছা জানাই”।
গানের বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত নেট আয় ন্যাশভিলের ভ্যান্ডারবিল্টে অবস্থিত মনরো কেয়ারল জুনিয়র চিলড্রেনস হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ক্যান্সার গবেষণা প্রোগ্রামে দান করা হবে। এই দাতব্য উদ্যোগটি সঙ্গীতের মাধ্যমে সমাজসেবার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
ডলি পূর্বে ২০২০ সালে ৬০ মিনিটের একটি সাক্ষাৎকারে তার প্লাস্টিক সার্জারি সম্পর্কে কথা বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আমি যতটুকু সম্ভব নিপ ও টাক করিয়েছি, তবে আমার চেহারা নিজস্ব, কার্টুনের মতো, যা বয়সের সঙ্গে কম পরিবর্তিত হয়”। এই মন্তব্যগুলো তার আত্মবিশ্বাস এবং স্ব-ইমেজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।
সামগ্রিকভাবে, ডলির ৮০তম জন্মদিনের উদযাপন শুধুমাত্র ব্যক্তিগত মাইলফলক নয়, বরং সঙ্গীত, হাস্যরস এবং দাতব্য কাজের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ অনুষ্ঠান হিসেবে রূপ নেয়। তার নতুন গানের মাধ্যমে পুরনো সুরের পুনর্জীবন এবং সামাজিক অবদান একসাথে দেখা যায়।
আপনার প্রিয় শিল্পীর নতুন রিলিজে সমর্থন জানিয়ে আপনি সঙ্গীতের আনন্দের পাশাপাশি দাতব্য কাজেও অংশ নিতে পারেন। সামাজিক মিডিয়ায় গানের লিংক শেয়ার করা এবং সংশ্লিষ্ট দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করা একটি সহজ কিন্তু কার্যকর উপায়।



