ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে গত সপ্তাহে বাজার মূলধন ৬,৩২৪ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা পূর্ব সপ্তাহের শেষের তুলনায় দশমিক ০.৯২ শতাংশের ঊর্ধ্বগতি। এই বৃদ্ধি পুঁজি বাজারের সামগ্রিক চাহিদা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।
লেনদেনের পরিসরে দেখা যায়, মোট তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩০৯টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়েছে, ৪১টির দাম কমেছে এবং ৩৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। দাম বাড়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাম কমা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় ৭.৫৪ গুণ বেশি, যা বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা নির্দেশ করে।
প্রধান সূচক ডিএসইএক্সও উল্লেখযোগ্যভাবে উর্ধ্বগতি দেখিয়েছে; সপ্তাহ জুড়ে সূচক ১৪০.৬২ পয়েন্ট বাড়ে, যা দশমিক ২.৮৪ শতাংশের বৃদ্ধি। সূচকের এই উত্থান বাজারের সামগ্রিক শক্তি ও লিকুইডিটি উন্নত হওয়ার সূচক।
দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণও বাড়ে; এই সপ্তাহে গড়ে ৫৭৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে, যা পূর্ব সপ্তাহের গড় ৩৮০ কোটি ১২ লাখ টাকার তুলনায় ১৯৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, অর্থাৎ দশমিক ৫১.৪৮ শতাংশের বৃদ্ধি। লেনদেনের পরিমাণে এই তীব্র বৃদ্ধি বাজারের সক্রিয়তা বাড়ার স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।
সপ্তাহ জুড়ে লেনদেনের মোট মূল্যের দিক থেকে ওরিয়ন ইনফিউশন শেয়ার শীর্ষে রয়েছে; গড়ে প্রতিদিন ২২ কোটি ৬২ লাখ টাকা লেনদেন হয়, যা মোট লেনদেনের দশমিক ৩.৯৩ শতাংশ গঠন করে। এই শেয়ারটি বিনিয়োগকারীদের উচ্চ আগ্রহের প্রতিফলন।
দ্বিতীয় স্থানে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার রয়েছে; গড়ে প্রতিদিন ১৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা লেনদেন হয়। তৃতীয় স্থানে সিটি ব্যাংকের শেয়ার রয়েছে, যার গড় দৈনিক লেনদেন ১১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এই তিনটি শেয়ার বাজারের লিকুইডিটি ও বিনিয়োগ প্রবাহের মূল চালক।
লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ফাইন ফুডস, ব্র্যাক ব্যাংক, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, লাভেলো আইসক্রিম এবং খান ব্রদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ অন্তর্ভুক্ত। এই প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন সেক্টরে বিস্তৃত, যা বাজারের বৈচিত্র্য ও বিস্তৃত অংশগ্রহণকে নির্দেশ করে।
বাজার মূলধন ও লেনদেনের পরিমাণের ধারাবাহিক বৃদ্ধি পুঁজিবাজারে ইতিবাচক মনোভাবের প্রতিফলন, তবে ৪১টি প্রতিষ্ঠানের দাম হ্রাস পেয়েছে, যা কিছু সেক্টরে চাপের ইঙ্গিত দেয়। বিনিয়োগকারীদের জন্য লেনদেনের গতি ও মূল্যের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সুযোগ সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা যায়।
ভবিষ্যতে যদি দৈনিক লেনদেনের উচ্চ মাত্রা বজায় থাকে এবং সূচকের উর্ধ্বগতি ধারাবাহিক হয়, তবে বাজার মূলধনের আরও বৃদ্ধি প্রত্যাশিত। তবে গ্লোবাল অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও দেশীয় নীতিগত পরিবর্তন বাজারের অস্থিরতা বাড়াতে পারে, তাই সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা প্রয়োজন।



