শফিকুর রহমান, জামায়াতে ইসলামি দলের আমির, শনিবার রাত পাবনা সরকারি অ্যাডওয়ার্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত যৌথ নির্বাচনী জনসভায় ‘লাল কার্ড’ প্রদান ঘোষণা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আধিপত্যবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং দলীয় কর্মীদের সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
জনসভায় তিনি ‘আজাদির পক্ষে’ হ্যাঁ ভোটের আহ্বান জানান এবং জোর দিয়ে বলেন, হ্যাঁ ভোট না হলেও সরকার গঠন করা হলে ফ্যাসিবাদী প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ভোটের গুরুত্ব ও ফলাফলকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
এরপর শফিকুর রহমান পাবনা-৫ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, পাবনা-১ আসনের ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, পাবনা-২ আসনের হেসাব উদ্দিন এবং পাবনা-৩ আসনের মাওলানা আলী আছগারকে একের পর এক পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি প্রত্যেক প্রার্থীর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে দলের সমন্বিত কৌশলকে জোর দেন।
শফিকুর রহমান নিজের পরিবার ও গোষ্ঠীর কারণে সাড়ে পনেরো বছর ‘মজলুম’ ছিলেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামি কর্মীদের মধ্যে চাঁদাবাজ, মামলাবাজ, দখলবাজের মতো কোনো নজির নেই এবং দলটি জনগণের কষ্ট দূর করার জন্য কাজ করছে।
তিনি দলীয় কর্মীদের ওপর করা বিভিন্ন অপরাধের তালিকা উপস্থাপন করেন, যার মধ্যে হত্যা, অপহরণ, গুম, খুন, মামলা, হামলা, নিবন্ধন বাতিল, দল নিষিদ্ধ, প্রতীক বাতিল, বাড়িঘর ধ্বংস এবং অফিস দখল অন্তর্ভুক্ত। এসব ঘটনার পরেও দলীয় কর্মীরা দমাতে পারেনি, এ কথায় তিনি দলের দৃঢ়তা তুলে ধরেন।
কোনো নির্দিষ্ট দলের নাম না তুলে শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, ৬ তারিখের পর অনেকের কপাল খুলে গেছে এবং অবৈধ পথে চলা বন্ধ করা হবে। তিনি চাঁদাওয়ালাদের হাত বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেন, দুর্নীতি না করার এবং কোনো ধরনের আশ্রয় না দেওয়ার কথা বলেন।
ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য তিনি রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে নয়, বরং স্বতন্ত্র ন্যায়বিচার ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ন্যায়বিচারকে বাধা না দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে স্বচ্ছ করা দরকার।
সভাটি পাবনা জেলা জামায়াতে ইসলামি আমির ও পাবনা-৪ আসনের প্রার্থী অধ্যপাক আবু তালেব মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জামায়াতে ইসলামি সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, শিবিরের জেনারেল সেক্রেটারি সিগবাতুল্লাহ এবং দশ দলীয় জোটের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের সমন্বিত বক্তব্যে জোটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নির্বাচনী কৌশল স্পষ্ট করা হয়।



