স্কটল্যান্ডের ক্রিকেট শাসন সংস্থা আইসিসি‑এর অনুমোদনে, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারতে অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়, ফলে স্কটল্যান্ডকে ‘সি’ গ্রুপে টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্থান দেওয়া হয়। স্কটল্যান্ডের চেয়ারম্যান উইলফ ওয়ালশ এবং প্রধান নির্বাহী ট্রুডি লিন্ডব্লেড উভয়েই আইসিসি‑এর এই সিদ্ধান্তের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, এই সুযোগটি তাদের খেলোয়াড়দের জন্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের ভিত্তিতে, আইসিসি‑এর আয়োজিত টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়া ম্যাচগুলোতে অংশ নিতে অস্বীকার করে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আইসিসি‑এর জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পায়, যেখানে উল্লেখ করা হয় যে বাংলাদেশ দল না খেলায়, স্কটল্যান্ডকে বিকল্প দল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
আইসিসি‑এর অফিসিয়াল ঘোষণায় বলা হয়েছে, স্কটল্যান্ডের পুরুষ দলকে টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তারা এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এবং টুর্নামেন্টের সময়সূচি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে।
স্কটল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী ট্রুডি লিন্ডব্লেডের মতে, “আজ সকালে আইসিসি‑এর কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়েছি, যেখানে আমাদের দলকে টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং আমরা তা গ্রহণ করেছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই আমন্ত্রণের জন্য আইসিসি‑কে ধন্যবাদ জানাই, লক্ষ লক্ষ সমর্থকের সামনে বিশ্ব মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ আমাদের জন্য রোমাঞ্চকর।” লিন্ডব্লেড নিরাপত্তা ও প্রস্তুতির দিক থেকে স্কটল্যান্ডের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।
চেয়ারম্যান উইলফ ওয়ালশও আইসিসি‑এর প্রধান জয় শাহের ফোন কলের উল্লেখ করে বলেন, “আজ সকালে জয় শাহের কাছ থেকে ফোনে নিশ্চিত করা হয় যে, স্কটল্যান্ডকে আইসিসি‑এর পুরুষদের টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।” তিনি যোগ করেন, “দলের পক্ষ থেকে আমরা এই সুযোগটি আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করছি এবং প্রস্তুত। আইসিসি‑কে এই সুযোগের জন্য ধন্যবাদ জানাই।”
স্কটল্যান্ডের দল ‘সি’ গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, যেখানে তাদের চারটি প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল এবং ইতালি। এই গ্রুপে প্রতিটি দল একে অপরের সঙ্গে একবার করে খেলবে, এবং গ্রুপের শীর্ষ দুই দল টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডে অগ্রসর হবে।
গ্রুপ পর্যায়ের প্রথম তিনটি ম্যাচ কলকাতা শহরের ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত হবে, আর শেষ ম্যাচ মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নির্ধারিত হয়েছে। এই দুই ভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থান স্কটল্যান্ডের খেলোয়াড়দের বিভিন্ন পিচ ও আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রস্তুতির দিক থেকে লিন্ডব্লেড উল্লেখ করেন, “আমাদের দল কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র প্রশিক্ষণ চালিয়ে আসছে, যাতে আমরা ভারতে পৌঁছে স্থানীয় কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারি।” তিনি বলেন, “টুর্নামেন্টের মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, আমরা আইসিসি টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপে একটি শক্তিশালী অবদান রাখতে প্রস্তুত।” স্কটল্যান্ডের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে ভ্রমণ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে রেখেছেন এবং দলকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ সেশন চালু করেছে।
এই সুযোগটি স্কটল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে, কারণ এটি প্রথমবারের মতো তারা আইসিসি‑এর টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। দলটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে এবং গ্রুপে সাফল্য অর্জন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আইসিসি‑এর এই সিদ্ধান্ত স্কটল্যান্ডের ক্রিকেট উত্সাহীদের জন্য উল্লাসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি তীব্রতর হয়ে উঠেছে।



