শুক্রবার বিকেল প্রায় ১২:৩০ টায় বরিশালের বাবুগঞ্জে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের লাশঘাটা এলাকায় এক কিশোরের ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ১৫ বছর বয়সী জুনায়েদ আলী জুমজুম, ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা, বন্ধুদের সঙ্গে নদীতে গোসলে নেমে পানিতে ডুবে গেছেন।
পুলিশের মতে, জুমজুম সন্ধ্যায় আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে সমবয়সীদের সঙ্গে নদীর তীরে গোসলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। তীরের কাছ থেকে প্রবাহের দিকে ঢালু অংশে নামার সময়, সাঁতার না জানার কারণে তিনি পানিতে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে ডুবে যান।
বরিশাল সদর নৌ ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ মো. সনাজ মিয়া ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৎক্ষণাৎ অনুসন্ধান শুরু করেন। তিনি জানান, তীরের ঢাল তীক্ষ্ণ হওয়ায় কিশোরের জন্য সাঁতার কাটা কঠিন হয়ে পড়ে এবং দ্রুত ডুবে যাওয়ার কারণ হয়।
ডুবে যাওয়ার পরপরই তিনজন ডুবুরি দল তৎকালীন সন্ধ্যা পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়ে যান, তবে কোনো ফলাফল অর্জন করতে পারেননি। পানির গহ্বরের গভীরতা এবং প্রবাহের তীব্রতা অনুসন্ধানকে কঠিন করে তুলেছে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা রোববার সকালে পুনরায় অনুসন্ধান চালানোর পরিকল্পনা করেছেন। তদুপরি, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও নিকটস্থ গ্রামবাসীদের সহায়তায় অতিরিক্ত ডুবুরি দল পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
দুর্ঘটনা ঘটার সময় নদীর পানির স্তর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল এবং তীরের ঢাল উঁচু হওয়ায় সাঁতার না জানে এমন তরুণদের জন্য ঝুঁকি বাড়ে। স্থানীয় প্রশাসন এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে।
পুলিশের মতে, জুমজুমের পরিবারকে ঘটনাস্থলে জানানো হয়েছে এবং তারা শোকাহত অবস্থায় রয়েছে। পরিবারকে সহায়তা ও সমবেদনা জানাতে স্থানীয় সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠী সমবেত হয়েছে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নদীর তীরের নিরাপত্তা চিহ্ন ও সতর্কতা সাইনবোর্ড স্থাপনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বিশেষ করে তরুণদের সাঁতার না জানলে নদীতে গোসলে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, ডুবে যাওয়া একটি দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং কোনো অপরাধমূলক দায়িত্ব প্রযোজ্য নয়। তবে, ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।
স্থানীয় পুলিশ স্টেশন থেকে জানানো হয়েছে যে, ডুবে যাওয়া কিশোরের পরিচয় নিশ্চিত করার পর তার পরিবারকে প্রয়োজনীয় আইনি ও সামাজিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তদন্ত চলমান থাকায়, পুলিশ অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য স্থানীয় বাসিন্দা ও সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলবে। কোনো নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।
এই দুঃখজনক ঘটনার পর, স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সাঁতার শেখার ও নিরাপদ পানির ব্যবহার সম্পর্কে আলোচনা বাড়ছে। সরকারী ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবও উত্থাপিত হয়েছে।



