মমতা কুলকর্ণি, ‘করণ আরজন’ ছবিতে তার উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের জন্য পরিচিত অভিনেত্রী, সম্প্রতি তার নাম পরিবর্তন করে শ্রী যমাই মমতা নন্দগিরি ঘোষণা করেছেন এবং কিন্নর আখডা নামে একটি ধর্মীয় সমাবেশে যোগদান করেছেন। এই পরিবর্তনটি জানুয়ারি ২০২৫-এ প্রকাশিত হয় এবং তার মুম্বাই ফিরে আসার পরের প্রথম বড় ঘোষণা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অভিনেত্রীটি গত ডিসেম্বর মাসে সামাজিক মাধ্যমে জানিয়ে ছিলেন যে, বহু বছর বিদেশে কাটানোর পর তিনি আবার মুম্বাইতে ফিরে এসেছেন। এই বার্তা তার দীর্ঘ সময়ের অনুপস্থিতি এবং বর্তমান অবস্থার সম্পর্কে প্রথম স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
মমতার ফিরে আসার পেছনে মূল কারণ ছিল তার বিরুদ্ধে চালু থাকা মাদক মামলার অভিযোগ। তাকে এবং তার সঙ্গী বিকি গসওয়ামিকে মাদক কার্টেলের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, ফলে তিনি আইনি জটিলতার মুখে দেশ ত্যাগ করে ছিলেন।
মুম্বাইতে ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে চলচ্চিত্রে ফিরে আসার গুজব ছড়িয়ে পড়ে, তবে তিনি তা নিশ্চিত না করে বরং নিজের আধ্যাত্মিক পথের দিকে মনোযোগ দেন। তার নাম পরিবর্তন এবং কিন্নর আখডায় যোগদান এই দিকের স্পষ্ট ইঙ্গিত।
নতুন নাম শ্রী যমাই মমতা নন্দগিরি তার ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের প্রতিফলন। যমাই দেবীর প্রতি তার ভক্তি এবং নন্দগিরি নামের ব্যবহার তার নতুন পরিচয়কে জোরদার করে, যা সাধারণত ধর্মীয় সমাবেশে গ্রহণযোগ্য নামকরণ পদ্ধতি।
কিন্নর আখডা হল একটি ধর্মীয় গোষ্ঠী, যেখানে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিরা ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনা এবং সামাজিক স্বীকৃতি অর্জনের জন্য একত্রিত হয়। মমতার এই যোগদান গোষ্ঠীর জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা, কারণ তার জনপ্রিয়তা গোষ্ঠীর দৃশ্যমানতা বাড়াবে।
সামাজিক মাধ্যমে তার এই সিদ্ধান্তের প্রতি ভক্ত ও সাধারণ মানুষ মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। কিছুজন তার আধ্যাত্মিক পদক্ষেপকে প্রশংসা করেছেন, আবার অন্যরা তার ভবিষ্যৎ চলচ্চিত্র প্রকল্পের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এ পর্যন্ত মমতা কোনো চলচ্চিত্রের সঙ্গে পুনরায় কাজ করার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি। তার বর্তমান ফোকাস স্পষ্টভাবে আধ্যাত্মিক অনুশীলন এবং কিন্নর আখডার সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া।
মাদক মামলায় তার বিরুদ্ধে এখনও আইনি প্রক্রিয়া চলমান, তবে মুম্বাইয়ে ফিরে আসার পর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কোনো নতুন তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
সারসংক্ষেপে, মমতা কুলকর্ণির নাম পরিবর্তন এবং কিন্নর আখডায় যোগদান তার চলচ্চিত্র জগত থেকে দূরে সরে আধ্যাত্মিক ও সামাজিক দায়িত্বের দিকে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। যদিও আইনি বিষয়গুলো এখনও অনির্ধারিত, তার এই নতুন পথ তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা যায়।
মমতার এই পরিবর্তন তার ভক্তদের জন্য নতুন আলোচনার বিষয় তৈরি করেছে, এবং কিন্নর আখডার জন্যও একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে তিনি কীভাবে এই নতুন পরিচয়কে গড়ে তুলবেন এবং তার সামাজিক প্রভাব কতদূর বিস্তৃত হবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



