বিশ্বের শীর্ষ টেনিস খেলোয়াড় নাওমি ওসাকা অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের তৃতীয় রাউন্ডে স্বাগতিক ম্যাডিসন ইংলিসের সঙ্গে নির্ধারিত ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে নিজে থেকে সরে দাঁড়ালেন। পেটের তীব্র ব্যথা তাকে খেলায় অংশ নিতে বাধা দিল, ফলে তিনি ম্যাচ থেকে প্রত্যাহার করলেন।
ম্যাচটি রাতের সেশনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, তবে ওসাকা দুই ঘণ্টা আগে পর্যন্ত তার ওয়ার্ম‑আপ সম্পন্ন করে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে পেটের অস্বস্তি অনুভব করেন, যা দ্রুত বাড়তে থাকে।
ওসাকা ব্যাখ্যা করেন, “আমি ভেবেছিলাম ব্যথা সাময়িক এবং আমি খেলতে পারব। গত ম্যাচেও সামান্য ব্যথা ছিল, তবে বিশ্রাম নিয়ে আমি আবার খেলতে পারব বলে মনে করেছিলাম।” তিনি পূর্বের ম্যাচে সামান্য অস্বস্তি থাকা সত্ত্বেও কোর্টে ফিরে গিয়েছিলেন, কিন্তু এইবারের ব্যথা বেশি তীব্র ছিল।
বেদনাকে উপেক্ষা করার চেষ্টা করার পরও, ওসাকা শেষ পর্যন্ত স্বীকার করেন যে শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাকে ম্যাচ চালিয়ে যাওয়া থেকে বিরত রাখবে। তিনি জানান, “শেষ পর্যন্ত চোটের কাছে হার মানতে হলো।” ফলে তিনি স্বেচ্ছায় ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ালেন এবং তার প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্থগিত হল।
৪ বার গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জয়ী ২৮ বছর বয়সী ওসাকা টেনিস জগতে একটি বিশাল নাম। তিনি ২০১৯ এবং ২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের নারী একক শিরোপা জিতেছেন, যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম উজ্জ্বল মুহূর্ত। তার এই প্রত্যাহার টুর্নামেন্টের শিডিউলে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন এনেছে।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেন বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম ইভেন্ট, যেখানে বিশ্বের শীর্ষ খেলোয়াড়রা একত্রিত হন। ওসাকার প্রত্যাহার টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতায় সাময়িক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, তবে আয়োজকরা দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ম্যাডিসন ইংলিস, যিনি ওসাকার সঙ্গে ম্যাচ খেলতে যাচ্ছিলেন, এখন অপ্রত্যাশিতভাবে এক ধাপ অগ্রসর হতে পারবেন। তার পরবর্তী প্রতিপক্ষের নির্ধারণ টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল সূচিতে প্রকাশিত হবে।
ওসাকার এই সিদ্ধান্ত টেনিস জগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, বিশেষত তার ভক্ত ও বিশ্লেষকদের মধ্যে। যদিও তিনি শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন, তবে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের আয়োজকরা ওসাকার স্বাস্থ্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে, তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। টুর্নামেন্টের মেডিকেল টিমও তার অবস্থার পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করবে।
এই ঘটনার পর টুর্নামেন্টের শিডিউলে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে, তবে অন্যান্য ম্যাচের সময়সূচি মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী চলবে। টেনিস ভক্তরা এখনো টুর্নামেন্টের বাকি অংশের জন্য উত্তেজনা বজায় রেখেছেন।
ওসাকার ক্যারিয়ারকে বিবেচনা করলে, তিনি ইতিমধ্যে চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জিতেছেন, যার মধ্যে দুইটি অস্ট্রেলিয়ান ওপেন অন্তর্ভুক্ত। তার সাফল্য ও দৃঢ়তা তাকে আধুনিক টেনিসের আইকন করে তুলেছে।
এই প্রত্যাহার তার শারীরিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, তবে ওসাকা ইতিমধ্যে জানিয়েছেন যে তিনি শীঘ্রই পুনরায় কোর্টে ফিরে আসতে চান। তার পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া কত দ্রুত হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পরবর্তী রাউন্ডে অন্যান্য শীর্ষ খেলোয়াড়রা কোর্টে নামবে, এবং টুর্নামেন্টের উত্তেজনা বজায় থাকবে। ওসাকার অনুপস্থিতি সত্ত্বেও, টুর্নামেন্টের গুণমান ও প্রতিযোগিতার তীব্রতা অপরিবর্তিত থাকবে।
টেনিসের এই বড় ইভেন্টে ওসাকার প্রত্যাহার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যা টুর্নামেন্টের গতিপথে সাময়িক পরিবর্তন আনবে। তবে টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য – বিশ্বের সেরা টেনিস খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রতিযোগিতা – তা অটুট থাকবে।
ভক্ত ও বিশ্লেষকরা ওসাকার শীঘ্রই সুস্থ হয়ে ফিরে আসার প্রত্যাশা করছেন, এবং তার পরবর্তী পারফরম্যান্সের জন্য অপেক্ষা করছেন। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের এই অধ্যায় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, টেনিস জগৎ নতুন গল্পের দিকে অগ্রসর হবে।



