অলিভিয়া ওয়াইল্ড তার নতুন পরিচালনায় অভিনয়ও করছেন এমন ‘দ্য ইনভাইট’ শিরোনামের ছবিটি স্যান্ড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে বিশ্বব্যাপী মনোযোগের কেন্দ্রে। ২৩ দিনের শুটিং সময়সূচি শুরু হওয়ার আগে তিনি এবং তার সহ-লেখক রাশিদা জোন্স ও উইল ম্যাককর্ম্যাক প্রায় কয়েক সপ্তাহ ধরে গল্পের কাঠামো ও চরিত্রের গভীরতা নিয়ে কর্মশালা চালিয়ে গেছেন। এই প্রস্তুতি শেষে ওয়াইল্ড ছবিটিকে ধারাবাহিকভাবে, অর্থাৎ শুটিংয়ের ক্রম অনুসারে রেকর্ড করার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে অভিনেতারা দৃশ্যের প্রবাহে স্বাভাবিকভাবে পরিবর্তন ও সংযোজন করতে পারে।
ওয়াইল্ডের মতে, প্রচলিত চলচ্চিত্র নির্মাণে শুটিং অ-ক্রমিকভাবে করা হয়, রিহার্সালের সুযোগ কম থাকে এবং অনেক নিয়ম কেবল ঐতিহ্যগতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি এই রীতিনীতি ভেঙে, কাজের সময় স্বতঃস্ফূর্ততা ও সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দিতে চান। “সর্বোত্তম সিনেমা প্রায়ই কাজের সময় সৃষ্ট সৃজনশীল আলোচনার ফল,” তিনি উল্লেখ করেন, যা নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য উদাহরণস্বরূপ কাজ করবে।
‘দ্য ইনভাইট’ মূলত স্প্যানিশ ভাষার ‘সেন্টিমেন্টাল’ ছবির রিমেক, তবে ওয়াইল্ডের দৃষ্টিকোণ থেকে গল্পের গঠন ও চরিত্রের পারস্পরিক ক্রিয়া পুনর্গঠন করা হয়েছে। ছবির প্রধান চরিত্রে ওয়াইল্ড নিজে এবং সেথ রোজেন অভিনয় করেছেন, যাদের বিবাহবিচ্ছেদের প্রান্তে থাকা সম্পর্ককে কেন্দ্র করে গল্পটি গড়ে ওঠে। তাদের সঙ্গে এডওয়ার্ড নর্টন ও পেনেলোপে ক্রুজ অভিনয় করছেন, যারা পার্শ্ববর্তী বাড়ির রহস্যময় দম্পতি হিসেবে উপস্থিত। পুরো চলচ্চিত্রের অধিকাংশ অংশ একক স্থানে সীমাবদ্ধ, যা নাটকীয় উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
চিত্রটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১০৭ মিনিট, এবং শুটিং পুরোপুরি একটিমাত্র লোকেশনে সম্পন্ন হয়েছে। এই পদ্ধতি কেবল উৎপাদন ব্যয় কমায় না, বরং অভিনেতাদের মধ্যে গভীর সংযোগ গড়ে তোলার সুযোগ দেয়। ওয়াইল্ডের সঙ্গে কাজ করা রোজেন, নর্টন ও ক্রুজ সবাই এই অনন্য শুটিং শৈলীর প্রশংসা করেছেন, কারণ এটি তাদের চরিত্রে আরও স্বতঃস্ফূর্ততা আনতে সহায়তা করেছে।
স্যান্ড্যান্সে ছবির প্রিমিয়ার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিল্প সমালোচকরা ওয়াইল্ডের এই পরীক্ষামূলক পদ্ধতিকে প্রশংসা করেছেন, যদিও ছবির বাণিজ্যিক সাফল্য এখনও নির্ধারিত হয়নি। ওয়াইল্ডের লক্ষ্য ছিল শুধুমাত্র একটি নতুন গল্প উপস্থাপন নয়, বরং চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রচলিত কাঠামোকে প্রশ্নে ফেলা। তিনি বিশ্বাস করেন, ভবিষ্যতে অধিক চলচ্চিত্র নির্মাতা এই ধরনের কর্মশালা-ভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণ করে আরও স্বতঃস্ফূর্ত ও মানবিক সিনেমা তৈরি করতে পারবেন।
‘দ্য ইনভাইট’ দর্শকদের জন্য একটি মানসিক পরীক্ষার মতো, যেখানে সম্পর্কের জটিলতা ও পার্শ্ববর্তী মানুষের অদ্ভুত আচরণ একসাথে মিশে যায়। ছবির থিম ও পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, ওয়াইল্ড ও তার দল একটি ঘনিষ্ঠ, তীব্র ও আবেগময় অভিজ্ঞতা তৈরি করেছেন, যা স্যান্ড্যান্সের স্বতন্ত্র পরিবেশে আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
চলচ্চিত্রের এই নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে জানার পর, চলচ্চিত্রপ্রেমী ও উদীয়মান পরিচালকরা নিজেদের প্রকল্পে কর্মশালা ও ধারাবাহিক শুটিংকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবতে পারেন। যদি আপনি স্বতঃস্ফূর্ততা ও চরিত্রের গভীরতা বাড়াতে চান, তবে ওয়াইল্ডের পদ্ধতি অনুসরণ করে স্ক্রিপ্টের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাজ করা এবং শুটিংকে ক্রমানুসারে পরিকল্পনা করা একটি কার্যকর উপায় হতে পারে। ভবিষ্যতে আরও বেশি চলচ্চিত্রে এই ধরনের সৃজনশীল পরীক্ষার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দর্শকদের নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে সিনেমা উপভোগের সুযোগ দেবে।



