এথিয়াড স্টেডিয়ামে ম্যানচেস্টার সিটি প্রায় এক মাসের পর প্রথম প্রিমিয়ার লিগ জয় অর্জন করে, উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের বিরুদ্ধে ২-০ গোলের পার্থক্যে ম্যাচ শেষ করে। এই জয়টি দলের শিরোপা দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা সাময়িকভাবে আর্সেনালের থেকে চার পয়েন্টের পিছিয়ে রয়েছে।
সোমবারের ম্যাচে সাম্প্রতিক সাইনিং অঁতোয়ান সেমেন্যো প্রথম গেমেই প্রভাব ফেলতে সক্ষম হন। বোর্নমাউথ থেকে এই মাসের শুরুর দিকে আসা সেমেন্যো প্রথমার্ধে একবার গলপোস্টের কাঠের ফ্রেমে আঘাত করেন, এবং পরে তিনি একমাত্র গোলটি করেন, যা ম্যানচেস্টার সিটির জয়ের মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে।
সেমেন্যোর আক্রমণাত্মক উচ্ছ্বাস এবং দ্রুত চলাচল দলকে অতিরিক্ত গতিশীলতা প্রদান করে, যা উলভারহ্যাম্পটনের রক্ষণকে ব্যাহত করে। তার গোলের পর তিনি অতিরিক্ত শটও মারেন, তবে তা কাঠের ফ্রেমে আটকে যায়।
ডিফেন্সে নতুন মুখ মার্ক গুইই, ক্রিস্টাল প্যালেস থেকে এই সপ্তাহে দলভুক্ত হন, তার প্রথম ম্যাচে তিনি পুরো রক্ষণকে স্থিতিশীলতা প্রদান করেন। গুইইয়ের ডিফেন্সিভ পারফরম্যান্সে তার শীতলতা এবং আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা দলের পূর্বের দুর্বলতা দূর করতে সহায়ক।
গুইই ম্যাচে মোট ১১২টি টাচ নেন, যা মিডফিল্ডার রড্রির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যা। তিনি ১২টি পাস উলভারহ্যাম্পটনের শেষ তৃতীয়াংশে পাঠান, যার মধ্যে একটি নিখুঁত তির্যক ক্রসও রয়েছে, যা ওমর মারমুশের শটে জোসে সাকে চমৎকার সেভ করতে বাধ্য করে।
দ্বিতীয়ার্ধের শেষের দিকে গুইই একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লক করেন, যা দলের শূন্য গোলের রেকর্ড বজায় রাখতে সহায়তা করে। তার এই রক্ষাকর্মের জন্য নতুন সহকর্মীরা তাকে প্রশংসা করে, এবং মাঠে তার উপস্থিতি রক্ষণকে দৃঢ় করে।
প্রশিক্ষক পেপ গুয়ার্দিওলা গুইই এবং সেমেন্যোর পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত মৌসুমে দলটি তরুণ খেলোয়াড়ে পূর্ণ ছিল, আর এই দুই নতুন খেলোয়াড়ের যোগদান দলকে অভিজ্ঞতা ও গুণগত মানে সমৃদ্ধ করেছে। গুইইকে তিনি ২৫ বছর বয়সের, দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণশক্তির মূল স্তম্ভ হিসেবে বর্ণনা করেন।
গুইইয়ের সাইনিং বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ম্যানচেস্টার সিটির রক্ষণশক্তি এই মৌসুমে ২১ গোল খেয়েছে, যা আর্সেনালের তুলনায় সাতটি বেশি। গুইইয়ের উপস্থিতি রক্ষণকে আরও সংগঠিত করে এবং ভবিষ্যতে গোলের সংখ্যা কমাতে সহায়তা করবে বলে কোচের ধারণা।
গুইইয়ের ডিফেন্সে আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি তার পাসিং দৃষ্টিভঙ্গি এবং মাঠের পরিস্থিতি পড়ার ক্ষমতা প্রশংসিত হয়। পেপ গুয়ার্দিওলা বলেন, গুইই দুই প্রশিক্ষণ সেশনের মধ্যেই তার চলাচল, কথাবার্তা এবং পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা দিয়ে দলের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছেন।
সেমেন্যোর ক্ষেত্রে কোচ উল্লেখ করেন, তার শক্তি ও উদ্যম আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি বলছেন, সেমেন্যোর দ্রুততা এবং আক্রমণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি দলকে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ভেঙে দিতে সাহায্য করবে।
এই জয়টি ম্যানচেস্টার সিটির জন্য আত্মবিশ্বাসের সঞ্চারক, কারণ তারা শিরোপা দৌড়ে আর্সেনালের কাছ থেকে দূরে নয়। দলটি এখন চার পয়েন্টের পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও, নতুন সাইনিংসের অবদান দিয়ে শীর্ষে ফিরে আসার সম্ভাবনা বাড়ছে।
প্রশিক্ষক পেপ গুয়ার্দিওলা ভবিষ্যৎ ম্যাচে দলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বলছেন, নতুন খেলোয়াড়দের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে দলকে শক্তিশালী করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গুইই এবং সেমেন্যোর মতো খেলোয়াড়দের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দলকে শিরোপা শিরোপা জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
সারসংক্ষেপে, ম্যানচেস্টার সিটি উলভারহ্যাম্পটরসকে ২-০ পরাজিত করে, নতুন সাইনিংসের অবদান স্পষ্টভাবে দেখা যায়, এবং শিরোপা দৌড়ে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়।



