পঞ্চগড়ের নির্বাচন অফিসের প্রধান কর্মকর্তা কাজি মো. সায়েমুজ্জামান পঞ্চগড়-১ আসন থেকে ন্যাশনাল কনগ্রেস পার্টি (NCP) প্রার্থী সারজিস আলম ও বিএনপি প্রার্থী নওশাদ জামিরকে শো-কার্স নোটিশ জারি করেছেন। নোটিশে উভয় প্রার্থীর নির্বাচনী আচরণে কোড লঙ্ঘনের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
নোটিশটি জেলা উপ-কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার সায়েমুজ্জামানের স্বাক্ষরে প্রকাশিত। এতে প্রার্থীদেরকে অফিসে সরাসরি অথবা তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তর না দিলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
সারজিস আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে তিনি ২৩ জানুয়ারি পঞ্চগড়ে অনুষ্ঠিত এক র্যালিতে তার নির্বাচনী জোটের প্রধানকে স্বাগত জানাতে আর্চ, বিলবোর্ড ও ব্যানার স্থাপন করেন। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী নিবন্ধিত দলের প্রার্থী শুধুমাত্র বর্তমান দলের প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারেন, তবে নোটিশে উল্লেখ আছে যে সারজিস নিজের ছবি অন্য দলের প্রধানের ছবির সঙ্গে যুক্ত করে প্রচার সামগ্রী প্রকাশ করেছেন, যা নিয়ম ৭(গ) লঙ্ঘন বলে বিবেচিত। এছাড়াও তিনি ফেসবুকে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে গেছেন যদিও তার সামাজিক মিডিয়া অ্যাকাউন্টের তথ্য রিটার্নিং অফিসারকে জমা দেননি, যা নিয়ম ১৬(ক) লঙ্ঘন করে।
নওশাদ জামিরের ক্ষেত্রে ২৩ জানুয়ারি সাদর উপজেলা ভূমি সহকারী কমিশনার পঞ্চগড় পৌরসভার মধ্যে একটি কোড অনুসরণমূলক অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় তিনি বা তার সমর্থকদের দ্বারা কোড লঙ্ঘনের উদাহরণ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। বিশেষত, করতোয়া সেতুর দু’পাশের বিদ্যুৎ স্তম্ভ ও গাছের উপর ঝুলিয়ে রাখা ফেস্টুনগুলো অপসারণের কাজ শুরু হয়, তবে এই সময়ে বিএনপি সমর্থক ও কিছু নেতা কাজটি বাধা দেন এবং অনুপযুক্ত আচরণ করেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচনী কোডে ফেস্টুনের ব্যবহার অনুমোদিত হলেও তা নির্দিষ্ট শর্তে এবং অনুমোদিত স্থানে সীমাবদ্ধ। অবৈধভাবে স্থাপন বা অপসারণে বাধা সৃষ্টি করা কোডের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়। উভয় প্রার্থীর কাছ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা না পাওয়া গেলে আদালতে মামলা দায়ের করা, প্রার্থিতার বাতিল বা অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই নোটিশগুলো নির্বাচনের পূর্বে প্রার্থীদের আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য নেওয়া পদক্ষেপের অংশ।
শো-কার্স নোটিশের প্রকাশের ফলে NCP ও BNP উভয়েরই প্রচার কার্যক্রমে বাড়তি নজরদারি বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। উভয় দলই নোটিশের প্রতিক্রিয়া দিয়ে তাদের প্রচার কৌশল সামঞ্জস্য করতে পারে, যা আসন্ন নির্বাচনের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাচনী কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন কোড লঙ্ঘনের ওপর তদারকি চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই প্রক্রিয়া নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।



