কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শনিবার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ইংল্যান্ড ৫ উইকেটের পার্থক্যে শ্রীলঙ্কাকে পরাজিত করে সিরিজে সমতা অর্জন করেছে। শ্রীলঙ্কা ২১৯ রান তৈরি করে, যার পর ইংল্যান্ড ২২ বল বাকি রেখে লক্ষ্য অর্জন করে।
শ্রীলঙ্কা টস জিতে ব্যাটিংয়ে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ইংল্যান্ডের স্পিনারদের ওপর চাপ সামলাতে পারে না। ইংল্যান্ড আট বোলার ব্যবহার করে, যার মধ্যে ছয়জন স্পিনার, ফলে শ্রীলঙ্কা ইনিংসে মোট ৪০.৩ ওভার স্পিনের মুখোমুখি হয়। শ্রীলঙ্কার প্রথম আট ব্যাটসম্যানের মধ্যে সাতজনই দুই অঙ্কের স্কোরে পৌঁছায়, তবে কেউই পঞ্চাশের সীমা অতিক্রম করতে পারেনি।
প্রারম্ভিক খোলার অংশে কামিল মিশারাকে ফিরিয়ে দেন জেমি ওভারটন, এরপর পাথুম নিসাঙ্কা ও কুসাল মেন্ডিসের স্থিতিশীলতা দেখা যায়। শ্রীলঙ্কা ৬৮ রানে তিন উইকেট হারিয়ে ডি সিলভা ও চারিথ আসালাঙ্কা জোড়া গঠন করে, তৃতীয় উইকেটে দুইজন ৬৬ রানের অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন। ডি সিলভার বিদায় নেয়ার পর আসালাঙ্কার প্রতিরোধ ভাঙে লেগ স্পিনার আদিল রাশিদ, এবং স্বাগতিক অধিনায়ক ৬৪ রানে সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন। শেষের দিকে পাভান রাত্নায়েকে ও দুনিথ ওয়েলালাগের ব্যাটিংয়ে দুইশের বেশি রান যোগ হয়, যা শ্রীলঙ্কার মোট স্কোরকে বাড়িয়ে দেয়।
ইংল্যান্ডের শিকড়ে রুটের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। রুট প্রথমে দুই উইকেট নেয় এবং পরে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৯০ রান করে দলকে লক্ষ্য অর্জনের পথে নিয়ে যায়। রুটের ৯০ রানের ইনিংস ৭৫ বলে সম্পন্ন হয়, এবং দুই দল মিলিয়ে আর কোনো খেলোয়াড় ৪৫ রানের বেশি করতে পারেনি। রুটের এই অবদান তাকে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার এনে দেয়।
ইংল্যান্ডের শীর্ষ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে রুটের পর বেন ডাকেট দ্রুতই আউট হন, তবে রেহান আহমেদকে বাদ দিয়ে রুটের সঙ্গে জোড়া গঠন করে ইংল্যান্ডের স্কোর বাড়ে। জেফ্রি ভ্যান্ডারসের মতে, ডাকেটের আউট হওয়ার পর ৬৮ রানের অংশীদারিত্ব ভেঙে যায়, এবং দ্রুতই জ্যাকব বেথেল ব্যাটিংয়ে ফিরে আসে। চতুর্থ উইকেটে হ্যারি ব্রুকের সঙ্গে রুটের ৮১ রানের অংশীদারিত্ব ইংল্যান্ডকে লক্ষ্য থেকে মাত্র কয়েক রান দূরে নিয়ে আসে। ব্রুক সতর্ক ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে নিজের গতি বজায় রাখেন, এবং রুটের সঙ্গে মিলিয়ে স্কোর বাড়িয়ে দেন।
ইংল্যান্ডের টপ অর্ডার শেষ হয়ে যাওয়ার পর, ব্রুক ও রুটের চমৎকার জুটি শ্রীলঙ্কার স্পিনারদের মুখে চাপ সৃষ্টি করে। ব্রুক ৭৫ বলে দুই চারে ৪২ রান করেন, এবং উইল জ্যাকসের সঙ্গে শেষ অংশে জস বাটলার ২১ বলে এক ছক্কা এবং তিন চারে ৩৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। শ্রীলঙ্কার দিক থেকে ডি সিলভা ও ভ্যান্ডারস প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন, যা ইংল্যান্ডের ব্যাটিংকে আরও সহজ করে দেয়।
ম্যাচের শেষ পর্যায়ে ইংল্যান্ড ২২ বল বাকি রেখে লক্ষ্য অর্জন করে, ফলে সিরিজের স্কোর ১-১ সমতা পায়। পরবর্তী ম্যাচের সূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে উভয় দলই শীর্ষ ফর্মে ফিরে আসার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে।



