বিএনপির মহাসচিব ও থাকুরগাঁও‑১ আসনের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শনিবার সন্ধ্যায় থাকুরগাঁও সদর উপজেলার শুকানপুখুরী ইউনিয়নের জাঠিভাঙ্গা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পথসভায় যুক্তরাষ্ট্র ও জামাতের গোপন “আঁতাত” দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে সতর্কতা প্রকাশ করেন।
মঞ্চে উঠে তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক একটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিশিষ্ট দার্শনিক ফরহাদ মজহার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও জামাতের মধ্যে একটি গোপন সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তিনি এই তথ্যকে বাংলাদেশের স্বার্থের বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করেন।
ফখরুলের মতে, “এই গোপন আঁতাত বাংলাদেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে”। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এধরনের কোনো সম্পর্ক দেশের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে দুর্বল করে তুলতে পারে।
তিনি একই সঙ্গে বর্তমান ফিলিস্তিনের পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “যখন ফিলিস্তিনে মানুষ হত্যা হচ্ছে, তখন এ ধরনের গোপন সম্পর্ক আমাদের দেশের শান্তি ও ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করতে পারে”। এ কথায় তিনি আন্তর্জাতিক মানবিক সংকটকে দেশীয় নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে যুক্ত করে দেখিয়েছেন।
মির্জা ফখরুল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ করেন, প্রকাশিত খবরের সত্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করতে। তিনি বলেন, “এই বিষয়টি জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে, তাই সরকারকে দ্রুত তথ্য প্রকাশ করে জনসাধারণকে জানাতে হবে”।
এছাড়া তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা চেয়ে জানান, “প্রকাশিত তথ্যের সঠিকতা যাচাই করে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মন্তব্য জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা দরকার”। এভাবে তিনি তথ্যের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চান।
এই রেলিকের আগে ফখরুল একই ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ ও পথসভায় অংশ নেন। তিনি স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে আলোচনা করে, বিএনপির নির্বাচনী পরিকল্পনা ও নীতি সম্পর্কে জানিয়ে দেন।
দুপুরে তিনি আউলিয়াপুর ইউনিয়নের একাধিক স্থানে নির্বাচনী রালিতে উপস্থিত হন। সেখানে তিনি থাকুরগাঁও-১ আসনের জন্য তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
বিএনপি এই সময়ে দেশের বিভিন্ন অংশে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে, এবং ফখরুলের এই মন্তব্য তার নির্বাচনী রণকৌশলের অংশ হিসেবে দেখা যায়। তিনি বিদেশি সম্পর্কের সম্ভাব্য ঝুঁকি তুলে ধরে, দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য সরকারের দায়িত্বের ওপর জোর দেন।
মির্জা ফখরুলের মন্তব্যের পর কোনো সরকারি বা বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তৎক্ষণাৎ কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে তিনি ভবিষ্যতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়ার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন, যা নির্বাচনী আলোচনায় নতুন দিক যোগ করতে পারে।
এই রকম প্রকাশনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রতি সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে তুলতে পারে, বিশেষ করে যখন নির্বাচনী সময়সীমা নিকটবর্তী। ফখরুলের বক্তব্যের ভিত্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে।



