বাগেরহাট সদর ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি না দিয়ে, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তার স্ত্রী কানিজ সুর্বনা স্বর্ণালী ও নয় মাসের মেয়ে নাজিমের দেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে নিয়ে আসা হয়।
সাদ্দামকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর গোপালগঞ্জে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বিভিন্ন মামলায় যশোর কারাগারে আটক রাখা হয়। তার গ্রেফতারের পর থেকে তিনি প্যারোলে আবেদন করে থাকলেও অনুমোদন পাননি।
গতকাল (শুক্রবার) বাগেরহাট সদর সাবেকডাঙ্গা গ্রাম থেকে পুলিশ তার স্ত্রী ও মেয়ের দেহ উদ্ধার করে। জেলাভাইসাব আবিদ আহমেদ জানান, দেহগুলো কারাগারে পৌঁছানোর পর ছয়জনকে অনুমতি দেয়া হয়, যার মধ্যে সাদ্দামও অন্তর্ভুক্ত। অনুমতি পাওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যে তিনি শেষবারের মতো তার স্ত্রী-সন্তানকে দেখেন। তিনি উল্লেখ করেন, “সাধারণত অনুমতি না নিলেও কারাবন্দির মৃত স্বজনকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা দেয়া হয়।”
সন্ধ্যা সাতটায় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স কারাগারের গেটে পৌঁছায়। তার সঙ্গে দুইটি মাইক্রোবাসে প্রায় বারো থেকে পনেরোজন আত্মীয়-স্বজন আসে। আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর সাড়ে সাতটায় ছয়জন পরিবারিক সদস্যকে দেহবাহী গাড়ি কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়। পাঁচ মিনিট পরই তাদের আবার বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।
সাদ্দামের চাচাতো ভাই সাগর ফারাজী বলেন, “জুয়েলের স্ত্রী-সন্তান মারা যাওয়ার পর আমরা কারাগারে যোগাযোগ করি, কিন্তু প্যারোল না দেওয়া হয়। পরে দেহ নিয়ে স্বজন কারাগারে আসে। মানবিক দিক থেকে জুয়েলের প্যারোল দেওয়া উচিত ছিল।” তিনি এই ঘটনার মানবিক দিকের ওপর জোর দেন।
অন্যদিকে, কানিজের বাবা রুহুল আমিন হাওলাদার বাগেরহাট সদর মডেল থানায় হত্যাকাণ্ডের মামলা দায়ের করেন। ওসি মাসুম খান জানান, মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মামলার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর আইনগত প্রক্রিয়া ও মানবিক দিক নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। সাদ্দামের প্যারোল না দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং দেহের দ্রুত কারাগারে নিয়ে যাওয়া নিয়ে বিভিন্ন দিক থেকে সমালোচনা ও সমর্থন উভয়ই প্রকাশ পেয়েছে। ভবিষ্যতে আদালত বা তদন্ত সংস্থার কাছ থেকে কী রকম নির্দেশনা আসবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।



