প্রিমিয়ার লিগের একটি উত্তেজনাপূর্ণ মুখোমুখিতে ফুলহ্যাম এবং ব্রাইটন ১-১ সমতার পর শেষ সময়ে সিদ্ধান্তমূলক গোলের মাধ্যমে ফলাফল বদলায়। ম্যাচের শেষ যোগ সময়ে ওয়েলশ মিডফিল্ডার হ্যারি উইলসন একটি সরাসরি ফ্রি-কিক নিক্ষেপ করেন, যা ব্রাইটনের গোলরক্ষক বার্ট ভেরব্রুগেনের হাত থেকে গলে গিয়ে নেটের পেছনে গিয়ে গোল হয়। এভাবে ফুলহ্যাম ১-০ করে জয় নিশ্চিত করে, আর দুজন গোলরক্ষকেরই দুঃখজনক মুহূর্ত থাকে।
দুপুরের প্রথমার্ধে উভয় দলই সুযোগের ঝড় তুলেছিল, তবে দুজন গোলরক্ষকই গুরুত্বপূর্ণ শট থামাতে ব্যর্থ হন। ব্রাইটনের বার্ট ভেরব্রুগেনের গলপোস্টের কাছে থাকা বলটি শেষ পর্যন্ত গোলের পথে গিয়ে, আর ফুলহ্যামের বার্ন্ড লেনোরও একই রকম দুর্বলতা দেখা দেয়। উভয় রক্ষণে এই ত্রুটি ম্যাচের শেষের নাটকীয়তা বাড়িয়ে দেয়।
ব্রাইটন প্রথমে আয়ারির শট দিয়ে স্কোর করে, যা লেনোর আঙুলের মাঝখানে গিয়ে নেটের মধ্যে প্রবেশ করে। আয়ারির শটের গতি তীব্র না হলেও লেনোর ভুল অবস্থানই গোলের মূল কারণ। এই গোলের পর ব্রাইটন সাময়িকভাবে নেতৃত্বে আসে এবং ম্যাচের প্রবাহে সামান্য সুবিধা পায়।
ফুলহ্যামের পরিবর্তনশীল আক্রমণকারী স্যামুয়েল চুকুয়েজে এই ম্যাচে আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বেঞ্চ থেকে উঠে তিনি দ্রুতই আক্রমণকে ত্বরান্বিত করেন এবং তার শীতল শেষ শট দিয়ে আয়ারির শটকে সমান করে। চুকুয়েজের এই সমতা গোলের পর ফুলহ্যামের আক্রমণ পুনরায় চালু করে।
কর্লোস বালেবা, মরক্কোর ক্যামেরুনের সঙ্গে সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকে উন্নত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ম্যাচের অন্যতম উজ্জ্বল খেলোয়াড় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি কেভিনের পালিয়ে যাওয়া বলটি চ্যালেঞ্জ করে প্রথমে রক্ষা করেন এবং পরবর্তীতে রাউল জিমেনেজের পাসে লেনোর ভুলকে কাজে লাগিয়ে গোলের সুযোগ তৈরি করেন। বালেবার এই সক্রিয় অংশগ্রহণ ফুলহ্যামের আক্রমণকে শক্তিশালী করে।
ব্রাইটনের আক্রমণেও কিছু উজ্জ্বল মুহূর্ত দেখা যায়। পাস্কাল গ্রসের ফিরে আসা দলের অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে দেয় এবং ড্যানি ওয়েলবেকের পাশে একটি শক্তিশালী জোড়া গঠন করে। তবে ব্রাইটনের উচ্চচাপপূর্ণ স্টাইল ফুলহ্যামকে প্রারম্ভিক পর্যায়ে জায়গা তৈরি করতে বাধা দেয়। গ্রসের উপস্থিতি সত্ত্বেও দলটি ধারাবাহিকভাবে সুযোগ তৈরি করতে পারে না।
ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে লুইস ডাঙ্কের পাস কাওরু মিতোমাকে খোলা জায়গায় পৌঁছে দেয়। মিতোমার প্রথম স্পর্শটি নরম ছিল, তবে দ্বিতীয় স্পর্শে তিনি গোলের দিকে যথাযথ শট দিতে পারেননি, ফলে লেনো তা রক্ষা করতে সক্ষম হন। লেনোর এই রক্ষা পরেও তিনি বলটি ফেরার্ডি কাদিওগলুর দিকে পাঠান, যার হেডারটি টিমোথি ক্যাস্ট্যাগ্নের দৌড়ে রক্ষার লাইনে আটকে যায়।
ব্রাইটনের শেষের দিকে ডাঙ্কের ক্রসকে উইলসনের শটের দিকে পরিবর্তন করা হয়, যা প্রায়ই নিজের নেটের দিকে গিয়ে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত গোলরক্ষক লেনোর এই শটের প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট না হওয়ায় গোলের সুযোগ তৈরি হয়। উভয় দলের রক্ষণে ধারাবাহিক ত্রুটি দেখা যায়, যা ম্যাচের গতি এবং ফলাফলকে প্রভাবিত করে।
ফুলহ্যামের জয় তাদের টেবিলে মাঝারি অবস্থান বজায় রাখে, আর ব্রাইটন এখনও মাঝের টেবিলে আটকে আছে। উভয় দলই পরের ম্যাচে উন্নতি করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে, বিশেষ করে রক্ষণে ত্রুটি কমিয়ে আক্রমণকে সমর্থন করা।
আগামী সপ্তাহে ফুলহ্যাম তাদের পরবর্তী লিগ ম্যাচে হোমে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মুখোমুখি হবে, আর ব্রাইটনও ভ্রমণ করে অন্য একটি শক্তিশালী দলের সঙ্গে লড়াই করবে। উভয় দলের কোচ ফ্যাবিয়ান হুর্জেলার এবং অন্যান্য স্টাফের লক্ষ্য হবে রক্ষণকে শক্তিশালী করা এবং সুযোগগুলোকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা।



