ঢাকার শাহবাগ থানা আজ শনিবার রাত আটটার দিকে ওমর বিন হাদি, শ্রীফ ওসমান হাদির ভাই, সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দাখিল করেন। তিনি নিজের ও হাদির সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই রেকর্ডটি সম্পন্ন করেন। জিডিতে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ না করেও তিনি নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তুলে ধরেছেন।
শাহবাগ থানার ওসিআই মো. মনিরুজ্জামান জানান, ওমর নিরাপত্তা হুমকির কারণে জিডি করেছেন, তবে ডকুমেন্টে কোনো নাম উল্লেখ করা হয়নি। তিনি বলেন, “অপরাধীর সনাক্তকরণ না হওয়ায় ভয় বাড়ছে, তাই তিনি পুলিশের সহায়তা চেয়েছেন।” থানা কর্মকর্তারা জিডি গ্রহণের পর বিষয়টি তদন্তের অধীনে রাখার কথা জানান।
ওমরকে ১৫ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম শহরের বাংলাদেশ হাই কমিশনে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল, যা বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত হয়। এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করে পুলিশের কাছে গিয়ে তার উদ্বেগ জানিয়ে দেন। এই পদে নিযুক্ত হওয়ার পরেও তিনি হাদির পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
শ্রীফ ওসমান হাদি, ইনকিলাব মঞ্চের অন্যতম নেতা, ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের সময় বিজয়নগর এলাকায় গুলি হয়ে আহত হন। আহত অবস্থায় তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তুলে সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা চলাকালীন ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু ঘটে।
ওমর জিডিতে উল্লেখ করেন, “শহীদ ওসমান হাদি হত্যার পর থেকে আমি ও হাদির সন্তানকে আবার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে ভয় পাচ্ছি।” তিনি বলেন, হাদির হত্যাকারী গ্রুপ এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় যেকোনো সময় নতুন অপরাধের সম্ভাবনা রয়েছে। এই অনিশ্চয়তা তার এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
অতিরিক্তভাবে, ওমর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপ ও ফেসবুক পেজ থেকে তার পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার প্রচেষ্টা সম্পর্কে অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তার ও হাদির সন্তানদের বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচার ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এসব কার্যকলাপের ফলে পরিবারকে মানসিক চাপ ও হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে।
থানা কর্মকর্তারা জিডিতে উল্লিখিত নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা জানিয়ে দেন। একই সঙ্গে, হাদির হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের সনাক্তকরণে অতিরিক্ত প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
হাদির হত্যার মামলায় এখনো কোনো সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার হয়নি, এবং তদন্ত চলমান রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মামলাটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত ইউনিটের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক দায়ী নির্ধারণ করা যায়নি।
ওমর বিন হাদি জিডিতে উল্লেখ করা নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষিতে, পুলিশ তার গৃহস্থালীর আশেপাশে নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এছাড়া, তিনি যে সামাজিক মিডিয়া হুমকি পেয়েছেন তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এই ঘটনায় নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রকাশ এবং হাদির হত্যার অপরাধমূলক দিক উভয়ই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ভবিষ্যতে তদন্তের অগ্রগতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে কার্যকর হবে তা নজরে থাকবে।



