AI ভিত্তিক ফাউন্ডেশন মডেল তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলোর লক্ষ্য কতটা আর্থিক লাভের দিকে, তা মাপার জন্য নতুন একটি পাঁচ‑স্তরের স্কেল প্রস্তাব করা হয়েছে। এই পদ্ধতি ল্যাবগুলোকে তাদের আয়‑উদ্যেশ্য অনুযায়ী শ্রেণিবদ্ধ করে, সফলতা নয়, উচ্চাকাঙ্ক্ষা নির্ণয় করে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বহু অভিজ্ঞ প্রযুক্তি পেশাজীবী বড় কোম্পানি ছেড়ে স্বতন্ত্র ল্যাব গঠন করেছেন। এদের মধ্যে টেক জায়ান্টে কাজ করা পুরনো প্রজন্মের বিশেষজ্ঞ এবং গবেষণা ক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী অন্তর্ভুক্ত।
এই নতুন ল্যাবগুলোতে কিছু দল বাণিজ্যিক দিককে অগ্রাধিকার দেয়, আবার কিছু দল মূলত গবেষণার স্বার্থে কাজ করে। ফলে, কিছু ল্যাব দ্রুতই ওপেনএআই‑সদৃশ বিশাল সংস্থায় রূপ নিতে পারে, আবার অন্যরা বাণিজ্যিক চাপ থেকে মুক্তে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে মনোনিবেশ করতে পারে।
প্রস্তাবিত স্কেলটি পাঁচটি স্তরে বিভক্ত, যেখানে ল্যাবের আর্থিক লক্ষ্যকে মাত্রা হিসেবে ধরা হয়েছে, লাভের পরিমাণ নয়। স্তরটি নির্ধারণের মূল মানদণ্ড হল ল্যাবটি কতটা টাকা উপার্জনের ইচ্ছা রাখে, তা নয় যে তারা ইতিমধ্যে কতটা উপার্জন করেছে।
সবচেয়ে উচ্চ স্তর, স্তর ৫, তে রয়েছে ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক, গুগলের জেমিনি ইত্যাদি বড় নামের ল্যাব। এই সংস্থাগুলো স্পষ্টভাবে বড় আয়‑উদ্যেশ্য নিয়ে কাজ করে এবং তাদের ব্যবসায়িক মডেলও তদনুযায়ী গড়ে উঠেছে।
নতুন প্রজন্মের ল্যাবগুলোকে এই স্কেলে কোথায় রাখা হবে, তা প্রায়শই অনিশ্চিত থাকে। তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট না হওয়ায়, একই সময়ে তারা গবেষণার স্বার্থে কাজ করলেও বাণিজ্যিক দিকেও ঝুঁকতে পারে।
বাজারে AI তে বিশাল তহবিল প্রবাহিত হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ল্যাবের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে অতিরিক্ত প্রশ্ন না করে তহবিল সরবরাহ করে। ফলে, ল্যাবের প্রতিষ্ঠাতারা নিজেদের ইচ্ছামতো স্তর নির্বাচন করতে পারে, আর তহবিলের অভাবের ভয় কমে যায়।
যারা বিলিয়নিয়ার হতে চায় না, তাদের জন্য স্তর ২-এ থাকা বেশি সন্তোষজনক হতে পারে। এই স্তরে ল্যাবগুলো গবেষণার মূল্যে বেশি মনোযোগ দেয়, আর বাণিজ্যিক চাপ কম থাকে, ফলে কাজের পরিবেশও স্বস্তিদায়ক হয়।
এই স্কেলের অনিশ্চয়তা শিল্পের কিছু নাটকীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ওপেনএআই প্রথমে অলাভজনক সংস্থা হিসেবে কাজ করলেও, এক মুহূর্তে দ্রুত স্তর ১ থেকে স্তর ৫‑এ উঠে যায়, যা শিল্পের মধ্যে বিশাল আলোচনার জন্ম দেয়।
অন্যদিকে, মেটা কোম্পানির প্রাথমিক AI গবেষণা স্তর ২‑এ ছিল, যদিও কোম্পানির লক্ষ্য ছিল স্তর ৪‑এর দিকে অগ্রসর হওয়া। এই পার্থক্যও শিল্পের মধ্যে কৌতূহল ও বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সারসংক্ষেপে, এই পাঁচ‑স্তরের স্কেল AI ল্যাবগুলোর আর্থিক লক্ষ্যকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে, যা বিনিয়োগকারী, গবেষক এবং শিল্প পর্যবেক্ষকদের জন্য একটি নির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।



