ঢাকার শাহবাগে জাতীয় নাগরিক দল (জাতীয় নাগরিক দল) শনিবার সন্ধ্যায় মাদুর পেতে নির্বাচনী থিম সং উদ্বোধন করেছে। পার্টির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়া অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। থিম সংটি দলটির নির্বাচনী প্রচারণার মূল স্লোগান ও নীতি প্রকাশের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি স্থানীয় বাসিন্দা, কর্মী ও পার্টির স্বেচ্ছাসেবকদের সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থিম সংের প্রথম সুর সরাসরি মঞ্চে বাজানো হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত জনগণ থেকে উৎসাহের তালি শোনা যায়। পার্টি এই উদ্যোগকে “মাটিতে মাটির গন্ধে” ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন হিসেবে উপস্থাপন করেছে। থিম সংের লিরিক্সে দেশের স্বাধীনতা, সামাজিক সমতা এবং শাপলা কলি শিল্পের প্রতি সম্মান প্রকাশ পেয়েছে।
‘আমরা থিম সং লঞ্চ (উদ্বোধন) করতে চেয়েছি রাজপথ থেকে, যেখান থেকে আমাদের জন্ম। আর আমরা খুব ফ্যান্সিভাবে (জাঁকজমকপূর্ণভাবে) ফাইভ স্টার হোটেল ভাড়া করে সেলিব্রিটিদের এনে করতে পারিনি।’ আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়া উল্লেখ করেন যে, পার্টি জনসাধারণের কাছাকাছি থেকে থিম সং উপস্থাপন করতে চেয়েছে, যাতে কোনো অতিরিক্ত ব্যয় বা শোভা-সজ্জা না থাকে।
‘আমরা মনে করছি, এখানে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষজন আছেন। আমাদের হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষজন আছেন এবং আমরা তাঁদের রিপ্রেজেন্ট (ধারণ) করি। আমরা তাঁদেরকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের থিম সং লঞ্চ করতে চেয়েছি। এমন কোনো জায়গায় লঞ্চ করতে চাইনি, যেখানে তাঁদের প্রবেশের অধিকার নেই।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, থিম সংের লঞ্চের স্থানটি এমনভাবে নির্বাচন করা হয়েছে যেখানে সকল সামাজিক গোষ্ঠীর মানুষ সহজে অংশ নিতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের পার্টি নির্বাচনে কী কী কনসেপ্ট (ধারণা) নিয়ে আসছে এবং একই সঙ্গে শাপলা কলিকে পরিচিত করানো—এই সবকিছু মিলিয়ে আজকের এই থিম সং। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি ভালো আউটপুট (ফল) পেতে। আপনাদের সবার ভালো লাগবে এই প্রত্যাশা রাখছি।’ তিনি থিম সংের মাধ্যমে পার্টির নতুন নীতি, যুব শক্তি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সমন্বয়কে তুলে ধরার কথা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম এবং দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা থিম সংের গুরুত্ব ও পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক, ছাত্র ও শ্রমিকও ছিলেন, যারা থিম সংের সুরে আনন্দের সাথে অংশ নেন।
জাতীয় নাগরিক দল এই থিম সংকে তার আসন্ন নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের মূল সঙ্গীত হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছে। থিম সংের মাধ্যমে পার্টি তার ভোটার ভিত্তিকে বিস্তৃত করতে, বিশেষ করে গ্রামীণ ও শহুরে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংযোগ গড়ে তুলতে চায়। পার্টির নেতৃত্বের মতে, থিম সংের বার্তা ভোটারদের কাছে সরাসরি পৌঁছাবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন ধারণা ও সংস্কারমূলক নীতি তুলে ধরবে।
পরবর্তী সপ্তাহে দলটি বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভায় থিম সংের প্রচার চালাবে এবং স্থানীয় সমাবেশে গানটি গাইবে। এই প্রচারাভিযানকে সমর্থন করে পার্টি তার নির্বাচনী ফরমে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে এবং এখন ভোটার তালিকায় নিজের অবস্থান দৃঢ় করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। থিম সংের উদ্বোধন জাতীয় নাগরিক দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ নির্বাচনে পার্টির পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করতে পারে।



