সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৫ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত সাত দিনের মধ্যে দেশীয় আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রায় চৌদ্দ হাজার প্রবাসীকে তাদের নিজস্ব দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে ১৮,২০০েরও বেশি বিদেশি শ্রমিককে বিভিন্ন আইনি লঙ্ঘনের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযানটি তিনটি প্রধান আইনের লঙ্ঘনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। আবাসন সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের জন্য ১১,৪৪২ জন, সীমান্ত নিরাপত্তা আইন ভঙ্গের জন্য ৩,৯৩১ জন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের জন্য ২,৮২৭ জনকে আটক করা হয়েছে। এই সংখ্যা সরকারী রেকর্ডে প্রকাশিত হয়েছে।
অতিরিক্তভাবে, সীমান্ত অতিক্রমের অবৈধ প্রচেষ্টার সময় ১,৭৬২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই গ্রুপের অর্ধেকের বেশি ইথিওপিয়ার নাগরিক, আর অবশিষ্ট অংশের বেশিরভাগই ইয়েমেনের বাসিন্দা। উভয় দেশই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শ্রমিক রপ্তানির প্রধান উৎস হিসেবে পরিচিত।
অধিকাংশ আটককে ইতিমধ্যে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মোট ১৪,৪৫১ জন প্রবাসীকে শিপিং বা বিমান মাধ্যমে প্রত্যাবর্তন করা হয়েছে বলে সরকার জানিয়েছে। ফেরত প্রক্রিয়ার সময় তাদের পাসপোর্ট ও ভিসা সংক্রান্ত নথি পুনরায় যাচাই করা হয়েছে।
বাকি প্রায় ২৫,৪৭৭ জনের বিরুদ্ধে এখনো আইনি প্রক্রিয়া চলছে। এই ব্যক্তিদের জন্য আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে, মামলাগুলোতে প্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষী জিজ্ঞাসা সহ বিভিন্ন ধাপ অনুসরণ করা হবে।
অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় বা পরিবহন সুবিধা প্রদানকারী ১১ জনকে আইনি দায়ের আওতায় আনা হয়েছে। এই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সহায়তা প্রদানকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
সৌদি আইন অনুযায়ী, অবৈধ প্রবাসীকে সহায়তা করা, তাদের গোপনভাবে দেশে প্রবেশের ব্যবস্থা করা বা আশ্রয় প্রদান করা হলে সর্বোচ্চ পনেরো বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং এক মিলিয়ন রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এই শাস্তি আইন প্রয়োগে কঠোরতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত।
মন্ত্রনালয় উল্লেখ করেছে, ভবিষ্যতে অনুরূপ লঙ্ঘন রোধে আরও কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিশেষ করে শ্রমিক রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি ও সীমান্ত পারাপার পয়েন্টে তদারকি বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
অবৈধ অভিবাসন ও শ্রমিক শোষণের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপগুলোকে সরকার ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য জরুরি’ বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে, বৈধ কর্মসংস্থান সুযোগের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
আসন্ন আদালত শোনানিতে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপন ও রক্ষা করার সুযোগ থাকবে। আইনগত প্রতিনিধিত্বের অধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং মামলার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে শাস্তি নির্ধারিত হবে।
সৌদি আরবের এই ব্যাপক অভিযানকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও শ্রমিক অধিকার সমিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তারা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, মানবিক আচরণ এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনার যথাযথতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, এক সপ্তাহের মধ্যে ১৪,৪৫১ প্রবাসীকে ফেরত পাঠানো এবং ১৮,২০০েরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা দেশের অভিবাসন নীতি ও শ্রমিক সুরক্ষার ওপর নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে। ভবিষ্যতে আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট নীতির পরিবর্তন দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজরদারির বিষয় হবে।



