বাংলাদেশ লেবার পার্টি আজ সন্ধ্যায় ঢাকা, মঘবাজারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত-এ-ইসলামি‑এর নেতৃত্বাধীন ১০‑দলীয় জোটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, ফলে জোটের সদস্যসংখ্যা একত্রে এগারোটি দল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ পর্যন্ত ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা জোটের কাঠামোকে একধাপ সংকুচিত করেছিল। লেবার পার্টির এই নতুন যোগদান জোটকে আবার পূর্ণাঙ্গ রূপে ফিরিয়ে এনেছে।
সংবাদ সম্মেলনটি মঘবাজারের একটি হোটেল হলের মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জামায়াত-এ-ইসলামি সহকারী সচিব জেনারেল এ.টি.এম. মাসুম প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে উপস্থাপিত হন। তিনি জোটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নতুন সদস্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সম্মেলনে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াত-এ-ইসলামি সহকারী সচিব জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং জোটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সকল অংশগ্রহণকারী একত্রে জোটের সংহতি ও সমন্বয়কে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ.টি.এম. মাসুম উল্লেখ করেন যে, লেবার পার্টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে জোটে যোগদান করেছে এবং এই পদক্ষেপকে “বড় সৌভাগ্যের বিষয়” বলে বর্ণনা করেন। তিনি জোটের ঐক্যকে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য বলে জোর দেন।
মোস্তাফিজুর রহমান ইরান জোটে যোগদানের পেছনে পার্টির মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, লেবার পার্টি এখনো “গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন” আনার লক্ষ্যে কাজ করবে এবং একটি “ইনসাফ-ভিত্তিক বাংলাদেশ” গড়ে তুলতে চায়। তার মতে, এই দৃষ্টিভঙ্গি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ইরান আরও যোগ করেন, লেবার পার্টি স্বাধীনতা সংগ্রাম ও জুলাই মাসের গণআন্দোলনের আদর্শকে বাস্তবায়ন করতে চায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ত্যাগ ও ঐতিহাসিক সংগ্রামের স্বপ্নকে নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর মাধ্যমে পূরণ করা জরুরি।
অতীতের সহযোগিতা সম্পর্কেও ইরান স্পষ্ট করেন যে, লেবার পার্টি প্রায় দুই দশক ধরে জামায়াত-এ-ইসলামির সঙ্গে কাজ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই দুই দল পূর্বে বিএনপি‑নেতৃত্বাধীন ১৮‑দলীয় জোটের অংশ হিসেবে একসঙ্গে রাজনৈতিক মঞ্চে সক্রিয় ছিল।
ইরান জোটের নীতি ও নৈতিকতার প্রতি পার্টির অটুট প্রতিশ্রুতি পুনরায় নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, লেবার পার্টি সবসময় নীতি-নির্ভর ও নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখার চেষ্টা করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা বজায় রাখবে।
লেবার পার্টির যোগদানের ফলে জোটের সদস্যসংখ্যা আবার এগারোতে পৌঁছেছে, যা আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে জোটের ভোটভিত্তি ও প্রভাবকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, এই সংযোজন জোটের সমন্বিত কৌশলকে শক্তিশালী করবে এবং নির্বাচনী মঞ্চে নতুন গতিপথ তৈরি করবে।
পরবর্তী সময়ে জোটের নেতৃত্ব দল সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে এবং সদস্য পার্টিগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে অতিরিক্ত বৈঠক ও পরামর্শ সভা আয়োজনের কথা জানিয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় নীতি নির্ধারণ, প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করা এবং প্রচার কার্যক্রমের সমন্বয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশ লেবার পার্টির জামায়াত-এ-ইসলামি‑নেতৃত্বাধীন জোটে যোগদান দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন সমন্বয় ও সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। জোটের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা, ভোটাভুটি কৌশল এবং নীতি সংহতি কীভাবে গড়ে উঠবে, তা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



