28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের সঙ্গে চুক্তি করলে কানাডিয়ান পণ্যে ১০০% শুল্কের হুমকি দেন

ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের সঙ্গে চুক্তি করলে কানাডিয়ান পণ্যে ১০০% শুল্কের হুমকি দেন

ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার তার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে জানিয়েছেন, যদি কানাডিয়ান সরকার চীনের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা সব কানাডিয়ান পণ্য ও সামগ্রীর ওপর ১০০% শুল্ক আরোপ করা হবে। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কানাডিয়ান সরকার ও চীন সরকারের মধ্যে আলোচনার তীব্রতা বাড়ে।

ট্রাম্পের পোস্টে তিনি কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রীকে “গভর্নর কার্নি” বলে উল্লেখ করে, কানাডি সরকার যদি চীনের পণ্যকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য “ড্রপ‑অফ পোর্ট” বানাতে চায়, তবে তা ভুল ধারণা বলে সতর্ক করেন। শুল্কের নির্দিষ্ট সময়সীমা বা বাস্তবায়নের পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি কোনো বিস্তারিত দেননি।

এই হুমকির পটভূমিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা রয়েছে। কার্নি স্বিটজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে একটি বক্তৃতা দিয়ে বড় শক্তিগুলোর বিরোধিতা করেছেন, যা ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।

বক্তৃতার পরপরই কার্নি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং উভয় দেশই বৈদ্যুতিক গাড়ি সহ একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে বলে ঘোষণা করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে এই সম্ভাব্য চুক্তিকে “একটি ভাল বিষয়” বলে প্রশংসা করে ছিলেন, তবে চুক্তির বাস্তবায়ন বা তার শর্তাবলী স্পষ্ট করা হয়নি।

চুক্তির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্টতা না থাকলেও, এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিবিসি এই বিষয়টি নিয়ে হোয়াইট হাউস, কার্নির অফিস এবং কানাডিয়ান সরকারের যুক্তরাষ্ট্র‑কানাডা বাণিজ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, তবে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্রাম্পের পোস্টে তিনি আবারও কার্নিকে “গভর্নর কার্নি” বলে সম্বোধন করে, কানাডি সরকার যদি চীনের পণ্যকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য একটি রুট হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, তবে তা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা বলে জোর দেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পণ্যের প্রবাহকে রোধের জন্য ১০০% শুল্ক আরোপের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

গত বছর ট্রাম্প প্রথমবার কানাডিয়ান সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের “৫১তম রাজ্য” বলে উল্লেখ করে, এবং কার্নিকে “গভর্নর” হিসেবে উল্লেখ করে কানাডি ভূখণ্ডের সম্ভাব্য অধিগ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে এইবারের শুল্ক হুমকি সরাসরি চীনের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের ওপর ভিত্তি করে।

সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণের দাবি এবং ন্যাটো সংক্রান্ত মন্তব্যগুলো কানাডিয়ান ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে তার সম্পর্ককে আরও তিক্ত করেছে। দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে কার্নি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করলেও, তার বক্তৃতা ট্রাম্পের বিরাগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ট্রাম্পের নিজস্ব ভাষণে তিনি বলেন, “কানাডি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল,” এবং এই মন্তব্যটি কার্নির বক্তৃতার পরপরই তার নিজস্ব ঠিকানায় প্রকাশিত হয়। এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি কানাডিয়ান পণ্যের ওপর ১০০% শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা পুনর্ব্যক্ত করেন।

এই পরিস্থিতিতে কানাডিয়ান সরকার কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা এখনো অনিশ্চিত। চীন সরকারের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হলে শুল্কের হুমকি বাস্তবায়িত হবে কিনা, তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, যদি শুল্ক আরোপ করা হয়, তবে কানাডিয়ান রপ্তানির ওপর উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ পড়বে এবং উভয় দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের পুনঃমূল্যায়ন হতে পারে। তবে বর্তমান পর্যন্ত কোনো সরকারি বিবৃতি বা নীতি পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই।

কানাডিয়ান সরকার ও চীন সরকারের মধ্যে আলোচনার অগ্রগতি, এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির পরবর্তী পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশে কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments