চৌদ্দগ্রাম, কমিল্লা-১ নির্বাচনী র্যালিতে আজ বিকেলে জামাত‑ই‑ইসলামির নায়েব‑এ‑আমের ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের “ফ্যামিলি কার্ড”কে অবৈধ বলে ঘোষণা করেন। তিনি র্যালির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং ভোটের পূর্বে এই বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য রাখেন।
তাহের উল্লেখ করেন, তিনি নির্বাচনী কমিশনারের সঙ্গে এই কার্ড সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং কমিশনারের মতে এমন কোনো কার্ড আইনগতভাবে স্বীকৃত নয়। তিনি আরও জানান, এই ধরনের কার্ড বহনকারী ব্যক্তিকে আটক করা উচিত এবং এ ধরনের কোনো কার্যক্রম নির্বাচন কোডের লঙ্ঘন হবে।
র্যালিতে তিনি বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড”কে ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক দল ভোটারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা অবৈধ এবং তা কঠোরভাবে শাস্তি পাবে। তিনি এই বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োগের আহ্বান জানান।
তাহের পাশাপাশি তিনি একটি রাজনৈতিক দলের ভারত সঙ্গে পুনরায় সমঝোতা করার অভিযোগও তুলে ধরেন। তিনি বলছেন, কিছু দল “বাংলাদেশকে ভারতের কাছে বিক্রি” করার চেষ্টা করছে, যা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের ৪ কোটি যুবকসহ সাধারণ মানুষ এ ধরনের চেষ্টাকে গ্রহণ করবে না।
জাতীয় নাগরিক দল (NCP) এর দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান হসনাত আবদুল্লাহ র্যালিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও বিরোধী মতের অধিকারকে স্বীকৃতি দেন। তিনি উল্লেখ করেন, “মুক্ত মত প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী মত প্রকাশের স্বাধীনতাও রক্ষা করা দরকার।”
হসনাত আবদুল্লাহ রাষ্ট্রীয় স্বৈরশাসনের চিহ্ন হিসেবে “ফ্যাসিজমের পদধ্বনি” পুনরায় শোনা যাচ্ছে বলে সতর্ক করেন। তিনি ভোটের দিন polling centre দখল করার পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদেরকে তাদের পিতামাতার আশীর্বাদ নিয়ে বাড়ি ছাড়তে বলার অনুরোধ করেন।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রাক্তন সভাপতি জাহিদুল ইসলাম র্যালিতে উপস্থিত হয়ে অশান্তি সৃষ্টিকারী ব্যক্তিদের পুলিশে হস্তান্তর করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভোটে বাধা সৃষ্টি করা কেউ যদি ধরা পড়ে, তবে তাকে শাস্তি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে না।
র্যালিতে অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে কমিল্লা উত্তর জেলা জামাতের সচিব সাইফুল ইসলাম শাহীদ, উপজেলা জামাতের আমির মাহফুজুর রহমান, প্রাক্তন আমির সাহাব উদ্দিন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় যৌথ উপ-সভাপতি মুজিবুর রহমান ভূইয়া, উপজেলা খলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা শাহজালাল এবং উপজেলা জামাতের সচিব বেলাল হোসেন অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
সমাবেশের সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন শিল্পপতি মোহিউদ্দিন আহমেদ ভূইয়া নায়িম এবং মডারেটর হিসেবে কাজ করেন মোহাম্মদ ইউসুফ। উভয়ই র্যালির শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই র্যালি নির্বাচনী পরিবেশে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং “ফ্যামিলি কার্ড” সংক্রান্ত বিতর্ককে কেন্দ্র করে পার্টিগুলোর কৌশলগত পদক্ষেপে প্রভাব ফেলতে পারে। যদি কমিশনারের নির্দেশনা কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়, তবে অবৈধ ভোটার প্রভাবের সম্ভাবনা কমে যাবে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই ধরনের অভিযোগের ফলে পারস্পরিক আস্থা হ্রাস পেতে পারে, যা আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
অবশেষে, র্যালির শেষ অংশে উপস্থিত সকল অংশগ্রহণকারী ভোটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য একত্রে আহ্বান জানিয়ে সমাপ্তি টানেন। এই ধরনের সমাবেশ নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের মনোযোগ বাড়িয়ে তুলবে এবং ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি করবে।



