28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসারামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৯ ভারতীয় কর্মকর্তা অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশ ত্যাগ

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৯ ভারতীয় কর্মকর্তা অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশ ত্যাগ

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (বাংলাদেশ‑ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড) থেকে ৯জন ভারতীয় কর্মকর্তা অনুমতি ছাড়া দেশ ছেড়ে গেছেন। ঘটনাটি শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, সকালবেলায় কেন্দ্রের ডাইনিং হলে ঘটেছে। কর্মীরা খাবারের টেবিলে তাদের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করে অনুসন্ধান শুরু করেন এবং দ্রুতই জানেন যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কেন্দ্রের প্রাঙ্গণ থেকে অজান্তে বেরিয়ে গেছেন।

পরবর্তী তদন্তে প্রকাশ পায়, ওই কর্মকর্তারা বিকেলে ভোমরা স্থলবন্দর (মঙ্গলা) থেকে ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশের ব্যবস্থা করে গেছেন। প্রকল্পের পরিচালক রামানাথ পুজারী বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত করেন যে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত অজুহাত তুলে তারা বাংলাদেশ ছেড়ে গেছেন।

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চার স্তরে গঠিত: সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার এবং অন্যান্য গার্ড। এসব স্তরের সত্ত্বেও কর্মকর্তাদের অপ্রত্যাশিত প্রস্থান নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কেন্দ্রের উপ‑মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) আনোয়ারুল আজিম জানান, প্রস্থান পূর্বে কোনো নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগ বা উদ্বেগের তথ্য কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি।

বিষয়টি তৎক্ষণাৎ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়। উচ্চতর কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।

প্রস্থানকারী কর্মকর্তাদের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। তারা হলেন: জাতীয় তাপবিদ্যুৎ কর্পোরেশন (এনটিপিসি) থেকে রামপাল কেন্দ্রে নিযুক্ত জিএম সুজেট প্রতীক বর্মন, জিএম বিশ্বজিৎ মন্ডল, জিএম এন. সূর্যপ্রকাশ রায়, এজিএম কেসাবা পলাকী, ডিজিএম সূর্যকান্ত মন্দেকার, ডিজিএম সুরেন্দ্র লম্বা, এজিএম পাপ্পু লাল মিনা, ডিজিএম অর্নিবাণ সাহা এবং সিএফও ইমানুয়েল পনরাজ দেবরাজ।

বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘটনা রামপাল প্রকল্পের সময়সূচি ও খরচে প্রভাব ফেলতে পারে। দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে গড়ে তোলা এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট, যা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে কর্মকর্তাদের হঠাৎ প্রস্থান প্রকল্পের পরিচালনায় অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে, যা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের স্বচ্ছতা ও ঝুঁকি মূল্যায়নে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন এবং কর্মী প্রবেশ‑প্রস্থান প্রক্রিয়ার কঠোর নিয়ন্ত্রণ না করা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বে বিশ্বাসের ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া, প্রকল্পের সময়সূচি বিলম্বিত হলে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি বাড়তে পারে, যা দেশের শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে অতিরিক্ত ব্যয় সৃষ্টি করবে।

অধিকন্তু, রামপাল কেন্দ্রের চারপাশে বিদ্যমান নিরাপত্তা স্তর সত্ত্বেও এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে, যা নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমন্বিতভাবে নিরাপত্তা প্রোটোকল শক্তিশালী করা, কর্মী তালিকা ও ভ্রমণ অনুমোদন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বিবেচনা করতে পারে।

এই ঘটনার ফলে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিচালনায় সাময়িক অস্থিরতা দেখা দিলেও, প্রকল্পের মূল লক্ষ্য—বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি কমানো এবং উভয় দেশের জ্বালানি সহযোগিতা শক্তিশালী করা—অবিকল রয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্গঠন পরিকল্পনা প্রকল্পের ধারাবাহিকতা ও বিনিয়োগকারীর আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments