লন্ডন স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট হ্যাম সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ জয় অর্জন করে, যা দলকে অবনতি থেকে রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। নুনো এস্পিরিটো সান্তোর তত্ত্বাবধানে দলটি প্রথম ৪৩ মিনিটের মধ্যে তিনটি গোল করে প্রতিপক্ষকে বিস্মিত করেছে।
সান্ডারল্যান্ডের রক্ষার গঠন ভেঙে দেয়া প্রথম গোলটি ১৪তম মিনিটে জার্রড বাওয়েনকে পৌঁছায়। রেইনিল্ডো ম্যান্ডাভা ইংলিশ উইঙ্গারকে দমন করার চেষ্টা করলেও বাওয়েনের গতি ও শুটিংয়ে বাধা দিতে পারেনি, ফলে গোলের সুযোগ তৈরি হয়।
দ্বিতীয় গোলের দায়িত্বে ছিলেন ক্রিসেন্সিও সামারভিল, যিনি ধারাবাহিক তৃতীয় ম্যাচে স্কোর করে নিজের ফর্ম বজায় রেখেছেন। সামারভিলের দ্রুত দৌড় ও ড্রিবলিং সান্ডারল্যান্ডের ডিফেন্সকে অস্থির করে, এবং তিনি গোলের আগে তৈরি হওয়া সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পয়েন্ট বাড়িয়ে দেন।
প্রথমার্ধের শেষের দিকে তৃতীয় গোলও যুক্ত হয়, যদিও প্রতিবেদনে স্কোরার নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে দলটি ৪৩ মিনিটের মধ্যে ত্রয়ী সম্পন্ন করে। এই দ্রুত তিন গোলের ধারাবাহিকতা ওয়েস্ট হ্যামের আক্রমণাত্মক তীব্রতা প্রকাশ করে।
বাওয়েনের পারফরম্যান্স বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে; তিনি ডান ফ্ল্যাঙ্কে ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করে দলের আক্রমণকে চালিত করেছেন। সামারভিলের ধারাবাহিক গোল এবং মিডফিল্ডে মাটেউস ফার্নান্দেসের সৃজনশীলতা দলকে অতিরিক্ত শক্তি প্রদান করেছে, যা লুকাস পাকেটার অনুপস্থিতিতেও কাজ করেছে।
কোচ নুনো এস্পিরিটো সান্তো ম্যাচে কোনো পরিবর্তন না করে একই দল রেখেছেন। ওয়েস্ট হ্যাম ৪-৪-২ ফরমেশন অনুসরণ করে, পাব্লো ফিলিপে ও ট্যাটি ক্যাস্টেলানোসকে ফরোয়ার্ডে স্থাপন করে, এবং বাওয়েন ও সামারভিলকে উইংয়ে মুক্ত স্থান তৈরি করার ওপর জোর দিয়েছেন।
সান্ডারল্যান্ডের পদ্ধতি ছিল ট্রাই হিউমকে ডান মিডফিল্ডে বসিয়ে সামারভিলের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা, তবে বাওয়েনের দ্রুত আক্রমণ ও সামারভিলের চালনা তাদের পরিকল্পনাকে ব্যর্থ করে দেয়।
ওয়েস্ট হ্যাম লুকাস পাকেটার ব্যাকের ব্যথা নিয়ে এখনও পূর্ণ শক্তিতে নেই, তবে মিডফিল্ডে তার অনুপস্থিতি দলকে বড় বাধা দেয়নি। পাকেটার ব্যাকের সমস্যার পরেও দলটি স্যান্ডারল্যান্ডের রক্ষাকে দ্রুত ভেদ করে সুযোগ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
এই জয় সত্ত্বেও ওয়েস্ট হ্যাম এখনও অবনতি থেকে বেঁচে থাকার জন্য আউটসাইডার হিসেবে বিবেচিত হয়। দলটি নটিংহাম ফরেস্টের থেকে দুই পয়েন্ট পিছিয়ে আছে এবং আগস্টের পর থেকে কোনো ক্লিন শিট বজায় রাখতে পারেনি। তবে ত্রয়ী গোলের মাধ্যমে দলটি আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করেছে।
আগামী রবিবার ওয়েস্ট হ্যাম ব্রেন্টফোর্ডের মুখোমুখি হবে, যেখানে পয়েন্ট সংগ্রহের জন্য তীব্র লড়াইয়ের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, দলটি ফুলহ্যাম থেকে উইংার আদামা ট্রোরের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করার পথে রয়েছে, যা আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, ওয়েস্ট হ্যামের সান্ডারল্যান্ডের ওপর জয় দলকে অবনতি থেকে রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে, তবে ধারাবাহিক পয়েন্ট সংগ্রহ ও ক্লিন শিট বজায় রাখা এখনও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।



