22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধবাগেরহাট সদর গ্রামে নবমাসের শিশুর মা ও সন্তান মৃত পাওয়া গেছেন

বাগেরহাট সদর গ্রামে নবমাসের শিশুর মা ও সন্তান মৃত পাওয়া গেছেন

বাগেরহাট সদর উপজেলা, সাবেকডাঙ্গা গ্রামে গতকাল দুপুরে একটি বাড়িতে নবমাসের শিশুর মা ও সন্তান মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ দল তৎক্ষণাৎ পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে, পরে বাগেরহাট ২৫০-শয্যা জেলাভবনে পোস্ট-মর্টেমের জন্য পাঠানো হয়।

বিবরণ অনুসারে, মৃত নারীর নাম কানিজ সুভর্ণা স্বর্ণালী, বয়স ২২ বছর, এবং তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলার ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী। স্বর্ণালীর একমাত্র সন্তান ছিলেন নবমাসের নাজিম হোসেন, যাকে দম্পতি পাঁচ বছর আগে গৃহবধূ করে।

স্বর্ণালী ছিলেন স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতা রুহুল আমিন হাওলাদের কন্যা। পুলিশ জানায়, স্বর্ণালীর দেহ বাড়ির ভিতরে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে, আর শিশুর দেহ মেঝেতে শোয়ায়। উভয় দেহই পোস্ট-মর্টেমের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং পরে পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়।

স্বর্ণালীর বড় ভাই শুভ ঘটনাটি সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, স্বামী জুয়েল হাসান সাদ্দাম বর্তমানে যশোর জেলখানায় বিভিন্ন মামলার কারণে আটক আছেন। দম্পতি প্রায় পাঁচ বছর আগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন।

শুভের মতে, স্বর্ণালী দীর্ঘ সময় ধরে স্বামীর জেলখানার কারণে মানসিক চাপ ও বিষণ্নতার শিকার ছিলেন। তিনি বলেন, “বোনটি প্রথমে শিশুকে হত্যা করে, পরে নিজের জীবন শেষ করেছে।”

শুভ আরও উল্লেখ করেন, আগস্ট ২০২৪-এ আওয়ামী লীগ শাসন শেষ হওয়ার পর সাদ্দাম গোপালগঞ্জে গ্রেফতার হন। স্বর্ণালী স্বামীর মুক্তির জন্য নানা প্রচেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন, যা তার মানসিক অবস্থা আরও খারাপ করে দেয়।

শুভের বর্ণনা অনুযায়ী, স্বর্ণালী একদিন শিশুকে বালতি পানিতে ডুবিয়ে মেরে ফেলেন এবং পরে আত্মহত্যা করেন। তিনি এই ঘটনাকে “বহু বছরের মানসিক চাপের ফল” হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

স্বর্ণালীর পিতা রুহুল আমিন হাওলাদারও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে, আমরা কাউকে দোষারোপ করতে চাই না। আমরা দ্রুত দেহ গ্রহণের আবেদন করেছি এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করব।”

বাগেরহাট সদর থানা অফিসার ইন চার্জ মোহাম্মদ মাসুম খান জানান, শিশুর মৃত্যুর ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে হত্যা মামলায় দায়ের করা হয়েছে। স্বর্ণালীর মৃত্যুর প্রকৃতি—হত্যা না আত্মহত্যা—মেডিকেল রিপোর্টের ফলাফলের পরই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।

মাসুমের মতে, পোস্ট-মর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলি আদালতে উপস্থাপন করা হবে। বর্তমানে ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত সব প্রমাণ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঘটনাটির সম্পূর্ণ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পরিবারকে শোকের সময়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে এবং দেহের যথাযথ হস্তান্তর নিশ্চিত করা হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments