ইংল্যান্ডে পেশাদার ফুটবলে দক্ষিণ এশীয় পুরুষ খেলোয়াড়ের সংখ্যা ২০২১-২২ মৌসুমের পর থেকে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, তবে শীর্ষ স্তরে তাদের অংশ মাত্র এক শতাংশের কাছাকাছি। ফুটবল ফেডারেশন (FA) ২০২১ সালে অংশগ্রহণ বাড়াতে একটি কৌশল চালু করলেও, উচ্চ পর্যায়ে প্রতিনিধিত্বের ঘাটতি এখনও স্পষ্ট।
গত সিজনে ইংল্যান্ডে মোট ২৮ জন দক্ষিণ এশীয় পেশাদার খেলোয়াড় ছিল, যা পাঁচ বছর আগে ১৬ জনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। তবে এই সংখ্যা পুরো পেশাদার খেলোয়াড়ের মোটের ১%‑এরও বেশি নয়, যা শীর্ষ স্তরে তাদের উপস্থিতি সীমিত রাখে।
FA-এর তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ে ফুটবলের অংশগ্রহণ বাড়ছে। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের মধ্যে ১১%‑এর বেশি এবং নারীদের মধ্যে ১৫%‑এর বেশি এই খেলায় সক্রিয়। এই পরিসংখ্যান দেখায় যে অংশগ্রহণের ইচ্ছা আছে, তবে তা শীর্ষে পৌঁছাতে বাধা তৈরি করছে।
প্রতিভা ঘাটতি নয়, বরং সুযোগের অভাবই প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। খেলোয়াড় এবং বিশ্লেষকরা বলছেন, পুরনো ধারণা, সাংস্কৃতিক প্রত্যাশা এবং অবকাঠামোর অভাব তরুণদের উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে বাধা দেয়।
মার্ভা ক্রিল, যিনি আংশিকভাবে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এবং ছোটবেলা থেকে মেয়েদের ও নারীদের ফুটবলে জড়িত, এই সমস্যাগুলোকে “দীর্ঘদিনের অব্যাহত চ্যালেঞ্জ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা বাড়ছে, তবে বাস্তবতা বহু বছর ধরে বিদ্যমান।
মার্ভা টটেনহ্যাম ক্লাবের যুব দলেও খেলেছেন এবং তার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি লক্ষ্য করেছেন, স্থানীয় মাঠে খেলোয়াড়দের সংমিশ্রণ তার নিজের সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করে না। তিনি উল্লেখ করেন, মাঠে দেখা মুখগুলো তার স্কুলের সহপাঠী ও প্রতিবেশীদের মতো নয়, ফলে একটি “সাদা স্থান” তৈরি হয়েছে।
প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের দূরত্বও বড় বাধা। মার্ভা জানান, অনেক বন্ধুরা প্রশিক্ষণ ও ম্যাচে অংশ নিতে পারছিল না, কারণ প্রশিক্ষণস্থলগুলো তাদের বাসস্থানের থেকে অনেক দূরে ছিল। এই শারীরিক সীমাবদ্ধতা পুরুষদের তুলনায় বিশেষভাবে প্রভাব ফেলেছে, যাদের জন্য গাড়ি বা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সহজলভ্য।
অতিরিক্তভাবে, প্রশিক্ষক ও কোচের অভাবও সমস্যার মূল। মার্ভা উল্লেখ করেন, তার বন্ধুরা প্রশিক্ষণ পেতে পারছিল না, কারণ তাদের জন্য বিশেষভাবে নিয়োজিত কোচের ব্যবস্থা ছিল না। এই ঘাটতি তরুণদের দক্ষতা বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে।
সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে স্টেরিওটাইপও প্রভাব ফেলছে। দক্ষিণ এশীয় পুরুষ ও নারীদের সম্পর্কে কিছু ধারণা তাদের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। উদাহরণস্বরূপ, শারীরিক গঠন বা পারিবারিক দায়িত্বের কারণে তারা ফুটবলে অগ্রসর হতে পারে না বলে ধারণা করা হয়।
এই সব কারণ মিলিয়ে দেখা যায়, যদিও অংশগ্রহণের হার বাড়ছে, তবে উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন ও সুযোগ এখনও সীমিত। FA এই সমস্যাগুলো সমাধানে বিভিন্ন উদ্যোগ চালু করেছে, তবে বাস্তব ফলাফল দেখা এখনও বাকি।
দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ফুটবলের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, ভবিষ্যতে আরও বেশি খেলোয়াড় শীর্ষ স্তরে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে তা বাস্তবায়নের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, কোচিং ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং স্টেরিওটাইপ ভাঙা জরুরি।
FA-এর রিপোর্টে উল্লেখিত পরিসংখ্যান এবং খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা একত্রে দেখায়, অংশগ্রহণের ইচ্ছা আছে, তবে তা শীর্ষে রূপান্তরিত করতে আরও কাঠামোগত সহায়তা প্রয়োজন।



